তালেবান নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কাবুল ছেড়েছেন বারাদার

আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তালেবান নেতাদের মধ্যে বড় আকারের বিরোধ হয়েছে। সিনিয়র তালেবান নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মোল্লা আবদুল গণি বারাদার এবং মন্ত্রিসভার এক সদস্যের সঙ্গে এই বিরোধ হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই জনসম্মুখে নেই নবগঠিত আফগান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গণি বারাদার। তারপর থেকেই তালেবান নেতাদের বিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করছে তালেবান কর্র্তৃপক্ষ। তালেবানের একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, আবদুল গণি বারাদার এবং আফগানিস্তানের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল উর রহমান হক্কানির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। এ সময় আশপাশে থাকা তাদের সমর্থকরাও পরস্পরের দিকে তেড়ে যান।

কাতারে অবস্থানরত এক সিনিয়র তালেবান নেতা এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দুই সিনিয়র তালেবান নেতার মধ্যে বিরোধ হয়। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে আবদুল গণি বারাদার অসন্তোষ প্রকাশ করলে বিরোধ তৈরি হয়। এ ছাড়া আফগানিস্তানে জয় পাওয়ার কৃতিত্ব কারা নেবেন তা নিয়েও বিরোধ হয়।

আবদুল গণি বারাদার মনে করেন, তার মতো যারা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন তাদের কারণেই বিজয় এসেছে। আর হক্কানি নেটওয়ার্কের তালেবান নেতারা মনে করেন, লড়াইয়ের মাধ্যমেই জয় এসেছে। তালেবান সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বিরোধের পর কাবুল ছেড়ে  চলে যান আবদুল গণি বারাদার। বর্তমানে তিনি কান্দাহারে অবস্থান করছেন।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে তালেবান। তালেবানের এই সরকারে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। তাকে কেন প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে, সে সম্পর্কে দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, তালেবানের মধ্যে অন্তর্কোন্দল রয়েছে। এর একদিকে আছেন বারাদার ও তার সমর্থকরা, অন্যদিকে আছে হক্কানি নেটওয়ার্ক। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সিরাজউদ্দিন হক্কানি। এ জন্য বারাদারকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও সিরাজউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। বারাদার ও হক্কানি নেটওয়ার্কের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে আখুন্দকে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়টিকে একটি আপসমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।