‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট’ এবং ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আলাদা বিল পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করার পর কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়।
‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিল-২০২১’ সংসদে প্রস্তাব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রস্তাব করেন ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২১’। পাস হওয়ার আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সার্বিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আর্থিক বিষয়াদির জবাবদিহি ও উন্নত সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিলে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকরের পর ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এই আইনের অধীনে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট’ নামে পরিচালিত হবে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সেবা নিশ্চিতে সংবিধিবদ্ধ একটি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা হবে শিশু হাসপাতাল। সেখানে শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণাসহ লেখাপড়ার ব্যবস্থা থাকবে। বিলে আরও বলা হয়, ইনস্টিটিউটে শিশুর শারীরিক-মানসিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষাগার, ব্যায়ামাগার ও শিশু কর্নার থাকবে। ইনস্টিটিউট স্বীকৃত কোনো বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে থেকে বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসার ওপর স্নাতকোত্তর/স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ও মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক/ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করতে পারবে।
এ ছাড়া কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করা যাবে। শিশু স্বাস্থ্য বা মাতৃস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সনদ বা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবে ইনস্টিটিউট। জাতীয়ভাবে সুনাম অর্জনকারী শিশু চিকিৎসা বিষয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি নিয়োগ দেবে সরকার।
এদিকে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২১’-এ বলা হয়েছে, কৃষিবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল কৃষিজ দ্রব্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত শর্তে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কৃষিবিদ বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা অধ্যাপককে চার বছরের জন্য উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি উপাচার্য থাকতে পারবেন না।
গত ২৮ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করার পর পরীক্ষা করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কৃষি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন ও যুক্তিযুক্ত।’