অবশেষে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সক্ষমতা এবং পরীক্ষার মূল্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই সাতটিকেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করবে। শিগগিরই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যাব বসানো হবে বলে জানা গেছে।
ওই সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, স্টেমজ হেলথ কেয়ার (বিডি) লিমিটেড ঢাকা, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার ও স্টেমজ হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে অতীতে করোনার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ টাকার বিনিময়ে নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ফল দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আর ডিএমএফআর মলিকিউলারের প্রস্তাবনায় ছিল নানা অসংগতি।
অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ল্যাব স্থাপনে ছয় দিন সময় চেয়েছে এবং পরীক্ষার খরচ নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। স্টেমজ হেলথ কেয়ার নমুনা পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করেছে দুই হাজার টাকা আর ল্যাব বসাতে সময় চেয়েছে তিন দিন। সিএসবিএফ হেলথ সেন্টারের ল্যাব স্থাপনে সময় লাগবে পাঁচ দিন, নমুনা পরীক্ষার খরচ নেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এএমজেড হাসপাতাল পাঁচ দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে, নমুনা পরীক্ষার খরচ নেবে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চার দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে বলে জানিয়েছে। তারা নমুনা পরীক্ষার খরচ নির্ধারণ করেছে ২ হাজার টাকা। পাঁচ দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে বলে জানিয়েছে গুলশান ক্লিনিক। তাদের নমুনা পরীক্ষার খরচ ১ হাজার ৭৫০ টাকা। ডিএমএফআর ল্যাব স্থাপনে সময় চেয়েছে চার দিন আর নমুনা পরীক্ষার খরচ ২ হাজার ৩০০ টাকা।
জানা গেছে, অনুমোদন পেয়ে গতকালই বিমানবন্দরে বুথ বসানোার জায়গা পরিদর্শন করেছে সিকদার গ্রুপ। তারা দ্রুতই এ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।