প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ নেতা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের লাশের নামে চট্টগ্রাম থেকে একটি বাক্স সাজিয়ে-গুছিয়ে আনা হয়েছিল। ওই বাক্স জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল না এ বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মরহুম রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের দেওয়া ঘর নিয়ে দুর্নীতি বা অনিয়মের তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন কেন বন্ধ করেছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত বন্ধ করবে কেন।তাদের তো তদন্ত বন্ধ করার কথা না। তদন্ত চালু রাখতে হবে। দেখতে হবে এসব যারা ভাঙল, তারা কারা; তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। ৪০ বছর পরে নয়, জিয়ার মৃত্যুর সংবাদের পর তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েক দিন পরে একটি বাক্স আনা হলো। এখানে কেউ একটা বুদ্ধি দিয়েছে আর জেনারেল এরশাদ তো এ বিষয়ে বেশি পারদর্শী। সাজিয়ে-গুছিয়ে একখানা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো।’
তিনি বলেন, ‘তখন এই পার্লামেন্টে বারবার প্রশ্ন এসেছে যদি লাশ পাওয়া যায় তার ছবি থাকবে না কেন? লাশ শনাক্ত করেছিল মীর শওকত (মীর শওকত আলী বীর-উত্তম)। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিনতাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘সত্যি কথা বলেন তো? বলেছিলেন লাশ কোথায় পাব? জেনারেল এরশাদ সাহেব তাকে আমি বললাম আপনি যে একটা বাক্স আনলেন? লাশটা কই? আমাকে বললেন বোন লাশ পাব কোথায়? আর কী বলব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘লাশের কথা আমরা বারবার জানতে চেয়েছি। তখনকার বিএনপি নেতারাও ছিল। তারা কী করে গেছে সেটা আপনারা দেখেন।’
সংসদ নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু তাকে খেতাব দিয়েছেন। তা সবই সত্য। কিন্তু তার অবদানটা কী? মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ তাকে চিঠি লিখেছিল। ওই চিঠি আমার কাছে আছে। এই সংসদে সেটা তুলে ধরব। সংসদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা দরকার। কর্নেল আসলাম বেগ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াকে একটি চিঠি দেয়, সেই চিঠিতে সে লিখেছিল আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হননি। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, সেক্টর কমান্ডার নন।’
মিডিয়ায় কী লিখল ওসব নিয়ে দেশ পরিচালনা করি না
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘মিডিয়ায় কী লিখল আর টকশোতে কী বলল ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না, আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে।’
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, যেটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে, মায়ের কাছ থেকে। আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কি না, সেটা যাচাই করি। কে কী বলল ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটা হলো বাস্তবতা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মানুষের একটা বদ-অভ্যাস হয়ে গেছে, কথায় কথায় হতাশ হওয়া। আর যতই কাজ করি তারপরও বলবে এটা হলো না কেন, ওটা হলো না কেন? আমি একটু বলব, এটা না বলে আগে কী ছিল আর কী আছে, সেটা দেখলেই তো হয়ে যায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, “আছে কিছু লোক। আছে না? ‘যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা’। এ অবস্থায় কিছু লোক ভোগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভোগে। সেটা নিয়ে আমার কোনো... নেই। আর মিডিয়ায় কী লিখল আর টকশোতে কী বলল আমি কিন্তু ওসব নিয়ে দেশ পরিচালনা করি না।”
জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাস বিকৃতি
২৫ বছর দেশে বিকৃত ইতিহাস শেখানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন সারা দেশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়, তখন চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সেনাদের হয়ে ব্যারিকেড দেওয়া লোকদের ওপর গুলি চালান। এরপর তিনি গেল সোয়াদ জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে। সেখানে পাবলিক ঘেরাও দিয়ে তাকে আটকাল।’
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ঘোষণা সংগ্রহ করে সারা দেশে প্রচার করে দিল। চট্টগ্রামে সেটা প্রচার হলো। ২৬ মার্চ দুপুর ২টা থেকে প্রথমে আমাদের হান্নান সাহেব একের পর এক জাতির পিতার ওই ঘোষণাপত্র পাঠ করতে থাকেন। জহুর সাহেব বললেন, একজন আর্মির লোক ডেকে নিয়ে আসো। তাহলে যুদ্ধ যুদ্ধ মনে হবে। তখন মেজর রফিক সাহেবের কাছে যাওয়া হলো। উনি অ্যাম্বুসে ছিলেন। সরে গেলে পাকিস্তানি আর্মি ঢুকে পড়বে। এজন্য অন্য কাউকে খুঁজতে বললেন। জিয়াকে কিন্তু তখন পাবলিক অ্যারেস্ট করছে সোয়াদ জাহাজে যেতে দেবে না। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ওইদিন জিয়াউর রহমান কিন্তু কোনো ঘোষণা দেননি। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে (জিয়াকে) যখন নিয়ে আসে, ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় জিয়াউর রহমান ওই ঘোষণাটা পাঠ করেন। যখন জিয়াউর রহমানকে ঘোষক বলা হতো তখন এই সংসদে প্রশ্ন উঠল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। তাহলে উনি ২৭ তারিখ ঘোষণা দেয় কী করে? পরে ইতিহাস এমনভাবে বিকৃত করে যে, সেই ২৭ তারিখকে তারা ২৬ তারিখ বানিয়ে ফেলল। অথচ ২৬ মার্চ জিয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাহলে কী করে ঘোষণা দিলেন?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে জাতির পিতা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার সব ব্যবস্থা করে দেশ স্বাধীন করেছেন, সেখানে একজন মেজর একখানা ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে একটা বক্তব্য দিলেন আর দেশ স্বাধীন হয়ে গেল? সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল? এটা হয়?’
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭৫-এর হত্যার সঙ্গে জিয়া জড়িত, এতে তো কোনো সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। তখন আমাদের হোম সেক্রেটারি ছিলেন রেজাউল হায়াত, তিনি বললেন, মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় নামটা থাকা উচিত ছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত, সেটা ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছে, বিবিসির ইন্টারভিউতে। অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইতে আছে, লরেন্স লিফশুলজের বইতে আছে কীভাবে অস্বীকার করবে?’
দুদককে তদন্তের নির্দেশ
দুদককে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জানলাম, দুদক বলেছে, আমরা তদন্ত করব কী, প্রধানমন্ত্রী যখন এ কথা বলেছেন! তো যে বা যারা ভেঙেছে তাদেরও নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এখানে দুদকের কর্মকর্তাদের এমন কথা বলার কথা না। এখন আমি বলব, দুদকের যে কর্মকর্তা এটা বলেছেন, এবার তার ব্যাপারে খোঁজ আমরা নেব। আমি দুদককে বলব, যে ৩০০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রতিটি ঘরের বিষয়ে তদন্ত করতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে। অবশ্যই দিতে হবে। গরিবদের জন্য ঘর করে দেব আর সেখান থেকে দুর্নীতি করে টাকা মেরে খাবে সেটা মানতে আমি রাজি না।’
আশ্রয়ণের ঘর যেন আর ভাঙতে না পারে সেজন্য আরও মজবুত করে ঘর নির্মাণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ঠিক করেছি। এখন কংক্রিটের পিলার এবং স্টিলের ফ্রেম দিয়ে ঘর করে দেব, যাতে চট করে ভেঙে ফেলতে না পারে। যদি জানতাম আজ প্রশ্ন উঠবে তো ছবিগুলো সঙ্গে করে নিয়ে আসতাম। আগামী সভায় নিয়ে আসব।’
চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে জিয়ার লাশ আছে কি নেই তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক : রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা না-থাকা নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির এমপিরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল, ২০২১’ বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়।
বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ইস্যুটি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির এমপিরা বক্তব্য পাল্টা-বক্তব্য দেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জিয়ার লাশ থাকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাব দেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘সেখানে কোনো লাশ নেই তা ৪০ বছর আগেই প্রমাণিত। একটি বাক্স রয়েছে।’
ওই বাক্স সরিয়ে ফেলার দাবি তুলে শেখ সেলিম বলেন, ‘লাশ থাকলে তার স্ত্রী সন্তানকে দেখানো হয়নি কেন? তখন ক্ষমতায় থেকেও বিএনপি লাশ থাকার প্রমাণ দিতে পারেনি। যদি লাশ থেকে থাকে, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রমাণ দিতে হবে।’ ভবিষ্যতে সংসদে লাশ নিয়ে কোনো কথা যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন শেখ সেলিম।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে নিহত হন সে সময় রাষ্ট্রপতি পদে থাকা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদের একাধিক বৈঠকে জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে জিয়ার কবরসহ লুই আই কানের নকশাবহির্ভূত সব স্থাপনা সরানোর দাবি ওঠে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘সংসদ ভবন নিয়ে লুই কানের যে নকশা, সেখানে কোথায় রয়েছে যে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করতে হবে? সেখানে লাশ আছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেগম জিয়া স্বামী মনে করে কাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান? তারই উচিত এই প্রশ্ন করা, উনার স্বামীর লাশ সেখানে আছে কিনা? বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে তারই নির্ণয় করা উচিত। আপনারা দলের নেতা ভেবে কাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ওখানে কি কারও মৃতদেহ আছে? নাকি অন্য কারও মৃতদেহ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন বলেছেন, সঠিক ইতিহাস আসতে নাকি শত বছর লাগে। মৃত্যুর ৪০ বছর পরে সঠিক ইতিহাস বের হলে সমস্যা কোথায়? জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কি নাই, এটা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের ব্যবস্থা আছে। আপনারা (বিএনপি) নিরপেক্ষ একটা কমিটি করেন। সরকার সহযোগিতা করবে। সত্য উদঘাটনে ভয়ের কী আছে?’
জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতি তো বিএনপিও করে। তারা বলেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে আমাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। আর তিনি (জিয়াউর রহমান) বেঁচে থাকতে কখনোই বলতে শুনিনি, দেখিনি উনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। তাদের প্রথমে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ যদি ইতিহাস বিকৃতি করে থাকে, সেটা বন্ধের আহ্বান বিএনপি জানাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের দলের নেত্রীকে বলেন, যদিও তিনি সাজাপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা নিয়ে সাজা স্থগিত নিয়ে বসবাস করছেন। আইনে সুযোগ থাকলে তার নেতৃত্বে কমিটি করেন।’
বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তার বক্তব্যে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগও ছিল। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যে জানাজা হয়েছিল, তাতে সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। সেগুলো প্রসিডিংসের মধ্যে রয়েছে। আমার কথায় যদি কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় থাকে, তা এক্সপাঞ্জ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও যদি অপমৃত্যু হয়। তাহলে তার ময়নাতদন্ত লাগে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সামরিক আদালতে বিচারও হয়েছে। এটা অসত্য কিছু নয়। আজকে জেনারেল এরশাদ বেঁচে থাকলে তিনি লজ্জা পেতেন। লজ্জা পেয়ে মুখ ঢাকতেন।’
বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আরকাইভস যদি করতে হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে জিয়াউর রহমান ছিলেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন বীর উত্তম, এটা স্বীকার করতে হবে। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। উনারা উনাদের কথা বলবেন। আর আমরা আমাদের কথা। এইটুকু ধৈর্য যদি তাদের না থাকে, তাহলে তারা কী ইতিহাস লিখবে? চর্চা করবে? আরকাইভসে কী জমা হবে সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস সবসময় জয়ীদের হাতে লেখা হয় বলে। তাই আমাদের মতো দেশে প্রকৃত ইতিহাস জানতে শতবছর লাগে। যতদিন পর্যন্ত দলীয় চশমায় ইতিহাস লেখা হয়, তাতে আইন পাস করে কোনো লাভ হবে না। আজকে ৪০ বছর পরে কেন জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে এই বিতর্ক। সরকারের ব্যর্থতা, ভোট চুরি, গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাট থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই বিতর্ক করা হচ্ছে।’
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের শেষ দিকে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারদলীয় সদস্যরা হইচই করেন।
আইন প্রণয়ন কার্যাবলি শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘আজ ৪০ বছর পর লাশ নিয়ে লাফালাফি করা হচ্ছে। সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে বিএনপির এমপিরা তা সংসদে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেখানে যে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই সেটা ৪০ বছর আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর তার লাশ পরিবারের কেউ দেখেননি। খালেদা জিয়া দেখেননি। তারেক জিয়া লাশ দেখার জন্য কান্নাকাটিও করেছিলেন। শাহ আজিজ একটি চালাকি করেছিলেন। ‘লাশ পাওয়া যাক না যাক, একটা বাক্স পাঠিয়ে দাও’। সেই বাক্স পাঠানো হয়েছিল। জনমনে সন্দেহ ছিল কিসের জানাজা করছি। শুধু বাক্স? নাকি ওখানে জিয়াউর রহমান আছে?”