আজ নিউ ইয়র্ক যাত্রা

১৯ মাস পর দেশের বাইরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সকালে প্রায় ৮০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফিনল্যান্ড হয়ে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন তিনি। করোনাকালে দীর্ঘ ১৯ মাস পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। সফরে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা ইস্যু, করোনার টিকাসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ।

নিউ ইয়র্ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘এবার সাধারণ পরিষদে প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে আশা।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করেছিলেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় তিনি ইতালি গিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কভিড মহামারীর কারণে অর্থনীতি যে আঘাত পেয়েছে সেটি দূর করে আশা জাগানোর জন্যই এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আশা’।

আফগানিস্তান সমস্যার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু হারিয়ে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি হারিয়ে যাচ্ছে না। রোহিঙ্গা শব্দটি এখন সবাই জানে এবং বাংলাদেশের কারণে এটি পরিচিত একটি নাম। তারা যে নির্যাতিত হয়েছে এটি সবাই জানে।’ রোহিঙ্গা নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব আগেই দিয়েছি। নতুন করে আর কিছু দিতে চাই না।’

আজ ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ডে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছাবেন তিনি। ১৯-২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। নিউ ইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন, সেখানে ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর অবস্থান করবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে যাত্রা করে ১ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

ড. মোমেন বলেন, এবারের সাধারণ অধিবেশনে ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেম সামিট’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার মূল লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুধা, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থার আন্তঃসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ওই উন্নয়ন অভীষ্টগুলোর অর্জন ত্বরান্বিত করা।

জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বেশ কয়েকটি বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালদ্বীপ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা আছে। এ ছাড়া বারবাদোজের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও বৈঠক হবে।