বড় ধরনের ট্রায়ালে সময়ের সঙ্গে মডার্নার টিকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এমন অবস্থা উত্তরণে বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ নিতে হতে পারে। খবর রয়টার্স।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে মডার্নার প্রেসিডেন্ট স্টিফেন হোজ বলেছেন, ‘এটি একটি অনুমান। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এর মানে আপনি যখন শরৎ ও শীতের দিকে তাকাবেন, সুরক্ষা ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৬ লাখ অতিরিক্ত সংক্রমণ দেখা যাবে।’ তবে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কত শতাংশ গুরুতর অসুস্থ হতে পারেন, তা জানাননি তিনি।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণার তথ্যের সঙ্গে মডার্নার এ তথ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। আগের গবেষণাগুলোতে বলা হয়েছিল, ফাইজার-বায়োএনটেকের তুলনায় মডার্নার টিকার সুরক্ষা বেশি স্থায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মডার্না টিকায় এমআরএনএ’র উচ্চ হার এবং দুই ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে উভয় টিকা তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে করোনায় গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
মডার্না জানিয়েছে, ১৩ মাস আগে তাদের টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় আট মাস আগে টিকাগ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার কম দেখা গেছে।
মডার্না নতুন এ গবেষণা চালিয়েছে গত জুলাই-আগস্টে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাব চলছিল। গবেষণা প্রতিবেদনটি এখন পিয়ার রিভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মডার্না তৃতীয় বা বুস্টার ডোজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছে বুস্টার ডোজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে তারা।
মডার্নার প্রেসিডেন্টের দাবি, ‘দ্বিতীয় ডোজের পর টিকাগ্রহীতাদের শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, গবেষণায় তৃতীয় ডোজের পর তার চেয়েও বেশি তৈরি হতে দেখা গেছে। আমাদের বিশ্বাস, এটি করোনার সংক্রমণ কমিয়ে দেবে। এমআরএনএ-১২৭৩র তৃতীয় ডোজ আগামী বছরের বেশিরভাগ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ করে দেবে।’