গ্রাহকদের মাথায় হাত

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সাদা গাড়িতে করে সংস্থাটির সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বাসার সামনে ভিড় জমান। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভও করেন গ্রাহকরা।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল দুপুরের দিকে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোড রোডের ৫/৫-এ নম্বর নিলয় কমপ্রিহেনসিভ ভবনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব সদর দপ্তরের একটি টিম। পরে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) গ্রেপ্তারের পর উল্টো তাদের মুক্তির জন্যই বিক্ষোভ করছেন কতিপয় গ্রাহক। বিকেলে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় গ্রাহক পরিচয়ে বেশ কিছু মানুষ সেখানে জড়ো হন। তারা সেখানে সাংবাদিকদের বলতে থাকেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রাহকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওইসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি। এ সময় সেøাগান দিতে থাকেন রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে। রেদোয়ান নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেওয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবেন না।’ শিকদার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে। আমরা চাই ইভ্যালির এমডিকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেওয়া হোক। তিনি ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন আমাদের কাছে, আমরা তাকে সময় দিয়েছিলাম। ছয় মাসের মাত্র এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। বাকি আরও পাঁচ মাস আছে।’ আলী নামে ইভ্যালির একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি তো বিদেশে পালিয়ে যাননি। যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে প্রশাসন ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু রাসেল দেশেই ছিলেন এবং আজকেও তিনি কিছু পণ্য গ্রাহকদের ডেলিভারি দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার না করে মুক্ত করে দিক।’

গত বুধবার রাতে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়। গুলশান থানায় মামলাটি করেন ইভ্যালির গ্রাহক আরিফ বাকের। মামলায় ইভ্যালির অর্থবিষয়ক বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। মামলা নম্বর ১৯। অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডারবাবদ মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পণ্য প্রদান ও টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানম-ির অফিসে যান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে আরিফ বাকেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ভয়ভীতি ও হুমকিসহ দুর্ব্যবহার করায় তারা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন এবং পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলায় বাদী আরও উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার এজাহারে রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধের কথা বলা হয়েছে। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ধারাগুলো হচ্ছে ৪২০, ৫০৬ ও ৪০৬। দণ্ডবিধির ৪২০ নম্বর ধারাটিতে প্রতারণা করে সম্পত্তি বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অপরাধে একজন ব্যক্তির সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ৪০৬ নম্বর ধারায় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর জেল, অর্থ জরিমানা ও উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ৫০৬ নম্বর ধারায় ভিকটিমকে ‘হত্যা বা আঘাত করার ভয়ভীতি’ দেখানোর অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর নির্ধারণ করা আছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। ওইদিন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, যেহেতু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্ব না নিয়ে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দেবে। তার আগে কমিটির সুপারিশ বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিবকে জানানো হবে। হাফিজুর রহমান জানান, ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাওয়া হয়েছিল। একটির পাওয়া গেছে। বাকিগুলোর তথ্যও আসবে। বৈঠকে ধামাকা, ই-অরেঞ্জ ইত্যাদির কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

ইভ্যালির সম্পদ ও দায় : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত সপ্তাহে সম্পদ ও দায়ের হিসাব দাখিল করে ইভ্যালি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাদের মোট দায় ৫৪৪ কোটি টাকা। তার মধ্যে এক কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল কোম্পানিকে দিয়েছেন। বাকি ৫৪৩ কোটি টাকাই কোম্পানিটির চলতি দায়। ইভ্যালির হিসাব অনুযায়ী, দায়ের বিপরীতে এর চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ১০৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দেখানো হচ্ছে স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে। মোট দায় ৫৪৩ কোটি টাকা থেকে ওই অঙ্ক বাদ দিলে বাকি থাকে ৪৩৮ কোটি টাকা। বিবরণী মেলাতে ইভ্যালি দেখিয়েছে, অস্থাবর সম্পত্তি ৪৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ৪২৩ কোটি টাকা হচ্ছে ইভ্যালির ব্র্যান্ড মূল্য আর ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা হচ্ছে অদৃশ্য সম্পত্তি। কোম্পানিটি নিজের ব্র্যান্ড মূল্য নিজেই নির্ধারণ করেছে। শুধু গ্রাহকদের কাছে দেনার পরিমাণ ৩১১ কোটি টাকা। এ দেনা আছে ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ গ্রাহকের বিপরীতে। আর মার্চেন্টরা পায় ২০৬ কোটি টাকা। এ হিসাব গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত। এরপরও ইভ্যালি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এবং পণ্য বিক্রি করেছে।

আমার টাকার কী হবে

রাসেল ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তারের পর ইভ্যালির গ্রাহকদের মধ্যে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা রাসেলের বাসার সামনে এসে ভিড় করেন। গ্রাহকদের মাঝে পণ্য কেনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা সেøাগানও দিতে থাকেন। ‘রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে, জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে’ এমনসব সেøাগান দিয়ে রাসেলকে নিয়ে যেতে বাধা দেন তারা। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রাজ্জাক নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আমার টাকার কী হবে, কার কাছে যাব? এতদিন তো ভেবেছি টাকা দেবে। গ্রেপ্তার না হলে রাসেলের বাসায় অথবা অফিসে যোগাযোগ করা যেত। কিন্তু এখন কার কাছে যাব। টাকা না পেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে আমার।’

গ্রাহকদের দাবি, টাকা যেন ফেরত পান তারা। প্রয়োজনে রাসেলকে আরও সময় দেওয়া হোক। নইলে আইনি জটিলতায় টাকা ফেরত নাও পেতে পারেন তারা। অন্য এক গ্রাহক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি ৩ লাখ টাকার চেক পেয়েছি। এখন রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন আমার টাকার কী হবে। আমরা তো এতদিন আশায় ছিলাম যে, টাকা ফেরত পাব। কিন্তু তিনি যদি কারাগারে থাকেন, তাহলে তো আর টাকা ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে। এখন কী করব, কোথায় যাব?’ সজীব নামে একজন বলেন, ‘সবার কাছ থেকে টুকটাক করে, সমিতি থেকে টাকা নিয়ে আমি বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু সব তো শেষ হয়ে গেল। আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল দুই-তিন দিন পর টাকা পেয়ে যাব। জানুয়ারি মাসে ৩ লাখ টাকার প্রোডাক্ট অর্ডার করেছিলাম। আর কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো আমার একটা কিছু হয়ে যেত। কিন্তু ভাই এখন আমি কী করব।’

ইভ্যালির উত্থান : ২০১৮ সালের ১৪ মে মাসে পারিবারিক কোম্পানি হিসাবে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নেয় ইভ্যালি ডটকম লিমিটেড। এর অনুমোদিত মূলধন ৫ লাখ টাকা। ১০ টাকা মূল্যমানের এক হাজার শেয়ারের মালিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল। আর চার হাজার শেয়ারের মালিক তার স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল আর শামীমা নাসরিন দিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে ৪০ লাখের মতো। প্রতি মাসে গড় লেনদেন ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। তাদের সঙ্গে এরই মধ্যে যুক্ত হয় ২৫ হাজার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং তারা কমিশনে চার হাজার ধরনের পণ্য বিক্রি করেছেন। গড়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ করে পণ্য বিক্রির অর্ডার পায় তারা।

পণ্য বিক্রির অভিনব মডেল : প্রচলিত পদ্ধতিতে পণ্য কেনার সঙ্গে সঙ্গে দাম পরিশোধ করতে হয়। দেশে কিস্তিতে ও বাকিতে পণ্য কেনার সুযোগও তৈরি হয়েছে এখন। আর কয়েক বছরের প্রবণতা হচ্ছে অনলাইনে কেনাকাটা। সে ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম পরিশোধ করতে হয়, যাকে বলা হয় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’। কিন্তু ইভ্যালি এসব পথে হাঁটেনি। ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনতে গেলেই দাম পরিশোধ করতে হয় আগে।

শুরুতে এক লাখ টাকার পণ্য কিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়, ইভ্যালি এ ফেরতের নামই দিয়েছে ‘ক্যাশব্যাক’। ক্যাশব্যাক জমা হয় ইভ্যালি ব্যালান্সে। তাও আবার তিন দিন পর। এই টাকায় ইভ্যালি থেকেই অন্য পণ্য কিনতে হয়। সে ক্ষেত্রে পণ্যের ৬০ শতাংশ দাম গ্রাহক পরিশোধ করতে পারেন ব্যালান্স থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ পকেট থেকে টাকা দিতে হয়।

ইভ্যালির ছিল ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘ভাউচার অফার’। আরও রয়েছে ‘ক্যাম্পেইন’ নামক একটি বিকল্প কর্মসূচি। ক্যাম্পেইনভেদে পণ্য সরবরাহ করা হয় ৭ থেকে ৪৫ দিনে।

কে এই রাসেল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী মোহাম্মদ রাসেল হচ্ছেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা। কর্মজীবন শুরু করেন তিনি ঢাকা ব্যাংক দিয়ে। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ‘কিডস’ ব্র্যান্ডের ডায়াপার আমদানি শুরু করেন। পরে নিয়ে আসেন ইভ্যালি। শুরুর দিকে চালু করা হয় ‘ভাউচার’ নামক একটি পদ্ধতি, এতে দেওয়া হতো ৩০০ ও ২০০ শতাংশ ক্যাশব্যাক। একসময় ১৫০ শতাংশ, ১০০ শতাংশ এবং পরে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। শুরুর দিকে ১০ টাকায় একটি পেনড্রাইভ এবং ১৬ টাকায় টি-শার্ট বিক্রি করে সাড়া জাগায় ইভ্যালি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেসব গ্রাহক ইভ্যালির কাছে টাকা পায়, তাদের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। আদালতের নির্দেশে গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার আইন আছে। কিন্তু আগে যুবক, ডেসটিনি, ইউনি টু পের টাকা গ্রাহকরা ফেরত পায়নি। এজন্য ইভ্যালি, ধামাকা বা ই-অরেঞ্জের টাকা ফেরত পাবে কি না সন্দেহ রয়েই যায়।’

তিনি বলেন, ‘ভোক্তাকে আরেকটু সচেতন হতে হবে। লোভনীয় অফারে পা দেওয়ার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে হবে। সতর্ক হতে হবে। কারণ নিজে সতর্ক না হয়ে সরকারের দোষ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।’