গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩ আর নারী ২৫ জন। অর্থাৎ এক দিনে পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যু হয়েছে দ্বিগুণ। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নারী ও পুরুষের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। তবে এখনো দেশে করোনায় নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যু প্রায় দ্বিগুণ বেশি। এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেছেন ১৭ হাজার ৪৭৪ জন এবং নারী ৯ হাজার ৬৭৩ জন। সে হিসাবে মোট মৃত্যুর ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ শতাংশ নারী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৯০৭ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১৪৭ জনের। পাশাপাশি মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ১১০ জনে। একই সময়ে সরকারি হিসাবে দেশে সেরে উঠেছেন ২ হাজার ৯১৯ জন। এ নিয়ে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
১৪ দিন ধরে করোনার সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে : গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৩০ হাজার ১৬৯টি, আর পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ হাজার ৭৫৬টি। দেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার ২৯০টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫টি। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা আগের দিন ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ঘরে। এর দুই দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। অর্থাৎ গত ১৪ দিন ধরে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, বরিশালে কম শনাক্ত : গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে ১ হাজার ৯০৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, বরিশালে কম রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা (মহানগরসহ) বিভাগে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী ১ হাজার ৩৭৬ জন শনাক্ত হয়। এরপরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে রোগী শনাক্ত হয় ১৫৪ জন। এছাড়া খুলনায় ১৩২ জন, রাজশাহীতে ৭৬ জন, রংপুর বিভাগে ৬৪ জন করে, সিলেটে ৩৮, ময়মনসিংহে ৩৬ জন এবং সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ৩২ জন।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে নয়জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন ও ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে একজন রয়েছেন। মারা যাওয়া ৩৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জন, খুলনা বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের তিনজন, রংপুর বিভাগের দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন একজন। মৃতদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে তিনজন।
অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৫০৭ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫২ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন।