সাংবাদিকদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বলে মনে করছেন এই নেতারা।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ১১ সাংবাদিক নেতা।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।
মসিউর রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।’
বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন মসিউর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউর দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা কারো কাম্য নয়।’
সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএনপিপন্থি) বিএফইজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএনপিপন্থি) ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।