আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রিমিয়ার হকি লিগের দলবদল। এর আগেই এক খেলোয়াড়কে নিয়ে উত্তেজনার রেস ক্লাবপাড়ায়। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে হাজির দুই পাওয়ার হাউজ মোহামেডান ও মেরিনার ইয়ংস ক্লাব। মোহামেডানের অভিযোগ মেরিনারের কর্তা, সমর্থকরা তাদের ক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর করেছেন। আর মেরিনারের অভিযোগ আরও গুরুতর। প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে মোহামেডান অপহরণ করেছেন তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় সারওয়ার মুর্শেদ শাওনকে। ফলে দলবদলের আগেই গভীর সংকটের মুখে হকি।
গতকাল ক্লাব প্রাঙ্গণে রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরে মেরিনার ইয়ংস। ক্লাবটির সহ-সভাপতি আলমগীর কবির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়, গত লিগে মেরিনারের হয়ে খেলা জাতীয় দলের খেলোয়াড় শাওন তার বাবার উপস্থিতিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মেরিনারের হয়ে খেলার জন্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে সই করেন। অগ্রিম হিসেবে ২ লাখ টাকাও গ্রহণ করেন তিনি। মেরিনারের আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন শাওন। রাতে ক্লাবে এসে তার খাবার খাওয়ার কথা ছিল। রাতে তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় মেরিনারের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে। এরপর থেকেই শাওনের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরের দিন মেরিনারের কর্তারা জানতে পারেন শাওনকে মোহামেডান ক্লাবে আটকে রাখা হয়েছে। সেটা জানতে পেরে মেরিনার কর্তারা মোহামেডানের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন শাওনকে ছেড়ে দিতে। সন্ধ্যায় শাওনকে ছেড়ে দিতে সম্মতি দেন মোহামেডানের কর্তারা। কিন্তু তার আসতে দেরি দেখে মেরিনারের কর্মকর্তা ও সমর্থকরা মোহামেডান ক্লাবে গিয়ে শাওনকে নিয়ে আসেন। আলমগীর দাবি করেন, সে সময় শাওনের শারীরিক অবস্থা খুব নাজুক ছিল। তারপরও তার নিরাপত্তার খাতিরে মেরিনারের কর্তারা তাকে নিয়ে মতিঝিল থানায় যান সাধারণ ডায়েরি করতে। আলমগীর বলেন, ‘শাওন সেখানে ডিউটি অফিসার ও ওসির (তদন্ত) কাছে অপহরণের বিষয়টি খুলে বলেন। সেটা শুনে পুলিশ কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। যখন তারা সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করতে যাবেন তখন ফোন পেয়ে ওসি-তদন্ত জানান, থানার বড় কর্তারা এলেই সাধারণ ডায়েরি লেখা হবে। থানার এসি ও ওসি না আসা পর্যন্ত শাওন থানায় থাকবে। আপনারা ক্লাবে যান। আমরা মোহামেডান ক্লাব হয়ে আপনাদের ওখানে যাব। এটা শুনে আমরা ক্লাবে চলে এসে অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু তাদের আসার নাম নেই। এর মধ্যে আমরা জানতে পারি মোহামেডানের হকি ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্স থানায় গিয়ে শাওনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলছেন। এটা জানতে পেরে আমরা থানায় গেলে প্রথমে আমাদের অপেক্ষায় রাখা হয়। পরবর্তীকালে আমাদের একজনকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এবং তখন এসি শাওনকে ডেকে এনে প্রশ্ন করেন তিনি কোথায় খেলতে চান। শাওন তখন বলেন, মোহামেডানে খেলতে চান। এটা শুনে আমাদের কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। বুঝতে পারি মোহামেডান যোগসাজশ করে, শাওনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কথা বলতে বাধ্য করেছে। আমরা জরুরি সভা করে আজই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে হকি ফেডারেশনকে জানাব ন্যায়বিচার পেতে।’ সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার রাতে মেরিনার কর্তার সঙ্গে শাওনের বাবার ফোনালাপের রেকর্ড স্পিকারে বাজিয়ে শোনানো হয়। যেখানে শাওনের বাবাও বলেন, তার ছেলে নওগাঁ থেকে মেরিনারে যোগ দিতেই বাসে উঠেছিলেন।
ওদিকে মোহামেডান পাল্টা দাবি করেছে, শাওনকে আনতে গিয়ে মেরিনারের কর্তা, সমর্থকরা ক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। যদিও কাল ক্লাবে গিয়ে সেভাবে ভাঙচুরের আলামত দেখা যায়নি। সেখানকার স্টাফরা জানিয়েছে, তারা নাকি ভাঙচুর করা কাপ, প্লেট নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিষ্কার করে ফেলেছে। শাওনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক জামাল রানা বলেন, ‘সে মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। সে এখন মুক্ত রয়েছে। দলবদলের সময় সে মোহামেডানের সঙ্গে দলবদলে অংশ নেবে।’