আরও ১১ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নজরদারিতে

ইভ্যালির মতোই বিতর্কিত ই-কমার্সের আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের অন্তত একডজন কর্ণধারকে (সেলিব্রেটি) নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তাছাড়া অভিযোগ ওঠায় ওইসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আলাদা তদন্তও করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সবুজ সংকেত মিললে যেকোনো সময় তাদের আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। এমনকি পেছনে থেকে যারা ওইসব প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছে তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এদিকে ই-অরেঞ্জ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে পরিচিত বরখাস্ত হওয়া পুলিশ ইন্সপেক্টর সোহেল রানাকে যেকোনো সময় দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।

বিতর্কিত ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন গ্রাহকরা। পাওনা টাকা ফিরে পেতে তারা প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রতিদিনই মামলা দিয়েই তাকে ঘায়েল করার হুমকি দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ধানমন্ডি থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী। মামলায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনসহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন কামরুল ইসলাম নামে পণ্য সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।

পুলিশ সূত্র জানায়, গুলশান থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল দম্পতি এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তারা বলছেন, ই-কমার্সের ব্যবসার ধরনই এরকম। এতে গ্রাহকের টাকায় ব্যবসা করেই সেই লাভ থেকেই গ্রাহককে পণ্য দেওয়া হয়। ব্যবসায়িক লাভ-লোকসানের চক্করে পড়ে এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাদের মুক্তি দেওয়া হলে ব্যবসা চাঙ্গা করার মাধ্যমেই সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। যুক্তি পাল্টা যুক্তিতে গতকাল রবিবার উভয়পক্ষই ইভ্যালি অফিসের সামনে জড়ো হন। তাদের মুক্তি চেয়ে সেøাগান দিয়েছেন গ্রাহকরা।

এদিকে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি আরও একটি সংস্থা ইভ্যালির কার্যক্রম নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এতদিন ইভ্যালির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত করায় আমরা তদন্ত করিনি। তবে আমরা ইভ্যালির অর্থ পাচারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। অর্থ পাচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে। এখনো পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। রাসেল ও ইভ্যালির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছিল। এ সুযোগে তিনি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করেছেন কি না সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুমন ও আবদুল মান্নান নামে মতিঝিলের দুজন ডলার ব্যবসায়ীর সঙ্গে রাসেলের যোগাযোগ থাকার বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। তাদের মাধ্যমে রাসেলের টাকা হুন্ডির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না এ বিষয়ে ওই দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অন্তত আরও ৯টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। তারা লোভনীয় অফার দিয়ে নিরীহ লোকজনকে সর্বস্বান্ত করেছে। ইতিমধ্যে রাসেলের মতোই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অন্তত একডজন কর্ণধারের তালিকা করা হয়েছে। তাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। অনুমতি মিললে তাদের আনা হবে আইনের আওতায়। তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির রাসেল দম্পতির কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাছাড়া পেছনে থেকে ওইসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যারা সহায়তা করেছে তাদেরও একটি তালিকা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ই-অরেঞ্জের মালিক বরখাস্ত হওয়া ইন্সপেক্টর সোহেল রানাকে যেকোনো সময় দেশে ফেরত আনা হবে। আমরা ভারতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের গ্রাহকের অর্থ লোপাটের পর তথ্য বেরিয়ে আসার পর সক্রিয় হয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও নয়টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও গ্রাহকের অর্থ লোপাটের তথ্য পেয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করছে পুলিশের বেশ কয়েকটি সংস্থা। তাছাড়া অনলাইনভিত্তিক এসব বাণিজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশনও রাখছে কড়া নজরদারি। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধামাকা, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, কিউকম, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিড ডটকম ডট বিডি ও আলেশা মার্টের মতো আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংকটকে পুঁজি করে ওইসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে এসেছে দীর্ঘদিন ধরেই। লোভনীয়, চটকদার ও ধামাকা অফারের খপ্পরে পড়ে পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম লাখ লাখ গ্রাহকের। আসল পণ্যের ছবি দেখিয়ে নকল পণ্য দেওয়া ও বিকাশে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না পাঠানোসহ প্রতারণার যেন শেষ নেই তাদের। এ প্রসঙ্গে সিআইডির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনায় আলাদা কোনো আইন নেই। তবে ন্যাশনাল ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০১৮ নামে একটি নীতিমালা থাকলেও তা কার্যকর নেই। আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে আর যেন ঠগবাজ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা এ বিষয়ে কথা বলছি।

এদিকে বর্তমানে গুলশান থানায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন ইভ্যালির দম্পতি মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন। আজ সোমবার রিমান্ড শেষে তাদের আবারও আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও তারা নতুন সুরে বায়না ধরেছে। তাদের মুক্তি দেওয়া হলে নাকি গ্রাহকের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ হবে। গতকালও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল দাবি করেছেন, গ্রাহকের কোনো অভিযোগই ঠিক নয়। ইভ্যালির কেউ কোনো টাকা আত্মসাৎ করেনি। গ্রাহক জেনেবুঝেই ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার করেছে। যারা ডেলিভারি পায়নি ভবিষ্যতে টাকা পেয়ে যাবে। এটাই ই-কমার্সের ধরন। ইভ্যালির প্রতিটি পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পণ্য ডেলিভারির বিষয়ে শর্ত দেওয়া ছিল। তার মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল স্টক থাকা পর্যন্ত। অনেক সময় স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেননি। যাদের পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেননি তাদের টাকা রিফান্ড করেছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, এখন পর্যন্ত এ দম্পতির কাছ থেকে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত প্রতিষ্ঠানটি ছিল রাসেলের পরিবারের মধ্যেই সীমিত। সেজন্য তাদের সবারই কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে বড় ধরনের কোনো গরমিলও নেই।

ইভ্যালির যাদের খোঁজা হচ্ছে : র‌্যাব জানিয়েছে, পারিবারিক মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও নিয়ন্ত্রক ছিলেন রাসেল দম্পতি। ইভ্যালির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপারেশনাল পদে রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (টেকনিক্যাল) শামীমার বোনের স্বামী মামুনুর রশীদ, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শামীমার বোন সাবরিনা নাসরিন, পরিচালক (পারচেজ অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) শামীমার বন্ধু আতিকুর রহমান। এছাড়াও শামীমার দুই ভাগ্নে জাহেদ ও জুবায়ের মোটরসাইকেল বিক্রিসংক্রান্ত ডেলিভারির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেন। রাসেল দম্পতি গ্রেপ্তারের পর পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন লাপাত্তা।

থানায় মামলা : ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা নিয়মিত একের পর এক মামলা করার হুমকি দিয়েই চলছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ধানম-ি থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। এ বিষয়ে ধানম-ি থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক অমৃতা জানান, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে এ তিন ধারায় অভিযোগ তুলে মামলাটি করেন। এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ছাড়াও আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্টস সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মকর্তা সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, সিইও রাসেলের পিএস মো. রেজওয়ান, বাইক ডিপার্টমেন্টের সাকিব রহমানসহ ২০ জন।

ই-কমার্স কোম্পানিগুলো বিখ্যাতদেরও বিপদে ফেলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : দেশের ই-কমার্স কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার প্রচার চালানোর কৌশলে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জড়িয়ে তাদেরও ‘বিপদে ফেলে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এ ধরনের কোম্পানিতে লগ্নি করার আগে তা কতটা নিরাপদ হবে, তা সবাইকে ভেবে দেখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একের পর এক ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানো ও প্রতারণার অভিযোগ আসতে থাকায় গতকাল রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ই-বিজনেস বলুন আর যেটাই বলুন, কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে- ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ। এর মধ্যে কীভাবে যেন আমাদের বেশ কয়েকজনের নামও জড়িত করে ফেলেছে। একজনের নাম তো বলতেই হয়, প্রখ্যাত নিউরো সার্জন এম আলী। তিনি তো আমার কাছে এসে কেঁদে কেঁদে বলেছেন, তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি (এম আলী) একজন প্রখ্যাত ডাক্তার। টেলিমেডিসিন কীভাবে প্রসার করা যায় সে বিষয়ে ধামাকার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল। এখন তার নামটি ধামাকায় দিয়ে নিজেদের প্রচার চলিয়েছে কোম্পানিটি। সেই বেচারা বিপদেই পড়েছেন আমরা দেখছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইভ্যালিসহ আরও কয়েকটা প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। কীভাবে তারা তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করবে এটা আমার এখন জানা নেই। আমরা মনে করি, তারা যে কমিটমেন্ট জনগণকে দিয়েছে, তা যদি পূরণ না করে, তবে আইন অনুযায়ী আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং করতেই হবে। তবে গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ ব্যাপারে লগ্নি করেন, ইনভেস্ট করেন, তারাও আগে বুঝে-শুনে করবেন। আপনারা প্রতারিত যাতে না হন। আপনারা নিজে চিন্তা করবেন, এই যে প্রলোভন আপনাদের দেখাচ্ছে এটা বাস্তবসম্মত কি-না, প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কী রকম, সেটাও যেন যাচাই করে ইনভেস্ট করেন। আমি এই বার্তাটা দিতে চাই, যারা প্রতারণা করবেন তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করব। আমাদের কাছে খবর আসছে, এগুলো তদন্তে কমিটি কাজ করছে।

ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এক মামলায় আসামি হওয়ার পর সোহেল রানা নামে একজন পুলিশ পরিদর্শক সম্প্রতি পালিয়ে গিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে দেশে ফেরানোর অগ্রগতি জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলো সিস্টেম অনুযায়ী চলে আসবেই। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, যারা লোভনীয় মুনাফার কথা বলছেন, যে গাড়ির দাম ১০০ টাকা, বলছে ৫০ টাকায় দেবে, এগুলো বাস্তবসম্মত কি না, সেগুলো দেখে-শুনে আমরা ইনভেস্ট করার জন্য অনুরোধ করছি, যেন কেউ প্রতারিত না হয়। ই-কমার্সের অনুমোদন যারা দিচ্ছেন, তাদের দিক থেকে কোনো দুর্বলতা আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার কথা হলো, যদি কেউ প্রতারণা করেন, আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যারা প্রতারিত হচ্ছেন, প্রতারণার শিকার হওয়ার আগেই বারবার চিন্তা করে ইনভেস্ট করবেন, এটা হলো আমাদের রিকোয়েস্ট।’