আগামী এক দশকে বাংলাদেশের খাদ্য পরিকল্পনাকে বিবেচনায় নিয়ে ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্ট (পথ নির্দেশিকা) তৈরি করা হয়েছে। ‘ফুড সিস্টেম সামিট ২০২১’-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পাথওয়ে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ফুড সিস্টেম সামিট আহ্বান করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য ফুড সিস্টেম ট্রান্সফরমেশনের বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করতে রোমভিত্তিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। জাতিসংঘ ফুড সিস্টেম সামিটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিষয়ে অবহিত করার জন্য গতকাল এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তথ্য ভবন মিলনায়তনে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় বক্তরা বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার চালিকাশক্তি হবে এই পাথওয়ে ডকুমেন্ট। খাদ্য পাওয়ার অধিকার নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র প্রয়োজন মাফিক নাগরিকের খাদ্য নিশ্চিত করবে। ফুড সাপ্লাই চেইন ঠিক রেখে তাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। বক্তারা এ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্টের পাঁচটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম বলেন, ‘আমরা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে সবার মধ্যে খাদ্যসচেতনতা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছি। জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা অনেকেই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের (ব্যালান্সড ডায়েট) সঠিক নিয়ম জানি না। আবার অনেকেই জেনেও তা মানি না। এসব বিষয়ে সচেতনতা দরকার।’
দেশে অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত উল্লেখ করে সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেন, জনগণকে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যগ্রহণ সম্পর্কেও সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে পাথওয়ে ডকুমেন্ট সম্পর্কে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে না পারি, তাহলে লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে থাকব। টেকসই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন এবং গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (এফপিএমইউ) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী।