পাবনায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে গুলি ও বোমা হামলা

পাবনার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এম রফিকউল্লাহর বাড়িতে গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার গভীর রাতে চেয়ারম্যানের আমিনপুর থানার রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়িতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারি জমি দখল করে পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজুর অবৈধ বাজার বসানো নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান রফিকউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, সাবেক এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় জিডি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর গত শনিবার দলীয় সভায় সমালোচনার সম্মুখীন হন আজিজুল হক আরজু। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি চেয়ারম্যানকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। তবে সাবেক এমপি আরজু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চেয়ারম্যান রফিকউল্লাহ জানান, শনিবার রাত ৩টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়ি লক্ষ্য করে ১১টি ককটেল নিক্ষেপ করে। বোমার শব্দে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা শটগানের গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধা রফিকউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি আজিজুল হক আরজু নগরবাড়ী ঘাটে সরকারি ৮ একর জমি দখল করে অবৈধ মার্কেট তৈরি করেছেন। সম্প্রতি আমি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় সাবেক এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি আমিনপুর থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দলীয় সভায় শনিবার তিনি এ কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে হত্যা করতেই এ হামলা চালিয়েছেন।’

তবে চেয়ারম্যানের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে আজিজুল হক আরজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার (চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা) সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই। সামনে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। আমাকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে দলের মধ্যেই প্রতিপক্ষের সমর্থকরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

এদিকে চেয়ারম্যান রফিকউল্লাহর বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে চেয়ারম্যান সমর্থকরা গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের কাশিনাথপুর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া নগরবাড়ী ঘাট এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যান সমর্থকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করায় বেলা ১টা পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিসহ ঘাটের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে নগরবাড়ী ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঘাট শ্রমিক ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক এমপি আরজু যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাদের সঙ্গে আঁতাত করে নগরবাড়ী ঘাট নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি একসময় জাসদ গণবাহিনীর সদস্য ছিলেন। হাওয়া ভবনের সঙ্গেও তার ব্যবসা ছিল। বিতর্কিত এই নেতার দাপটে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ তার কাছ থেকে পরিত্রাণ চায়। সাবেক এমপি আজিজুল হককে নগরবাড়ীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত রাখতে কাজ করছে। তবে ঘাট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’