রাঙ্গামাটিতে চার গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন এক নারী। গত শনিবার আদালত থেকে নির্দেশের পর গতকাল রবিবার কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বাদী আর্জিয়া আলম আঁখি রাঙ্গামাটি জেলা শহরের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার স্বামী শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহারে বাদীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিসহ তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার চার আসামির মধ্যে জাহেদা বেগম (৪০) বাংলাদেশ টেলিভিশনের এবং মো. আলমগীর মানিক (৩৮) এশিয়ান টেলিভিশনের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি। অন্য দুই আসামি মাসুদ পারভেজ নির্জন (২৪) ও শহিদুল ইসলাম হৃদয় (২৫) এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি আলমগীর মানিকের সহযোগী।
মামলার এজাহারে আর্জিয়া আলম আঁখি বলেছেন, ‘প্রতারণামূলকভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে আমি ও আমার স্বামীর আইডিতে ছদ্মবেশ ধারণ করে আপত্তিকর, মানহানিকর কমেন্ট করে হেয়প্রতিপন্ন ও ফেইসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করে আসামিরা। পরে আইডি হ্যাক করে আমার ক্ষতির উদ্দেশ্যে আইডি থেকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলে। এছাড়া বিভিন্ন ভুয়া ফেইসবুক আইডিতে আমার ছবি প্রকাশ করে আমাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এরপরও আমাকে এবং আমার স্বামীকে মেরে ফেলে লাশ গুম করে ফেলা, আমাকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণের হুমকি দেয় আসামিরা।’
মামলা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাঙ্গামাটিতে সাইবার ক্রাইম অপরাধীদের উৎপাত বেড়েছে। এ ক্রাইমের সঙ্গে জড়িতরা সংঘবদ্ধভাবে এসব করছে। এরা প্রতিনিয়ত অনেকের সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা নিতেও ভুক্তভোগীরা ভয় পান। আমি, আমার স্বামী ও বাবাকে নিয়ে অনেক জঘন্য অপরাধ করে চলেছে এ সংঘবদ্ধ চক্রটি। শেষ পর্যন্ত আমাকে ও আমার স্বামীকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ, শ্লীলতাহানির হুমকি দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু উপেক্ষা করে আমি আদালত এবং থানার দ্বারস্থ হয়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি, যেন আমার মতো আর কোনো নিরীহ নারী ও পরিবারকে ভিকটিম হতে না হয়। তাই আমি অনতিবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি মো. কবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বাদীর অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টের মামলা, তাই তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’