স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

১২-১৭ বছর বয়সীদের টিকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি

আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হবেÑ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ ঘোষণা দেওয়ার পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান প্রসঙ্গে গতকাল রবিবার ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। টিকাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটিসহ অন্যান্য সবার পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

এর আগে গত শনিবার মানিকগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেওয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেওয়া সম্ভব, সেটাইআমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি সম্পর্কে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গত সাত দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭৫৮ জন, তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩ হাজার ৭৫৮ জন কম। মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। পুরো সপ্তাহের প্রথম দু’দিন শনাক্তের হার ৭ শতাংশের কিছুটা বেশি ছিল, এর পরের দিনগুলো থেকে ৬ শতাংশ বা এরচেয়ে কিছুটা বেশি। সামগ্রিকভাবে গত ৩০ দিনের সংক্রমণ নি¤œমুখী আছে। এই শনাক্তের হার যদি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা যায় তাহলে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা চলছে, সেটা বেগবান হবে।’

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে করোনা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি রোগী দেখা গেছে গত জুলাই মাসে। সে মাসে শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৬৮২ জন।’

এ সময়ে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সংক্রমণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলা সবার শীর্ষে রয়েছে। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর শীর্ষ ১০ জেলার তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে নোয়াখালী জেলা। এ জেলায় শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৬২৯ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর এবং ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সীর সংখ্যা বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং টিকা নিলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. নাজমুল ইসলাম।

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আবারও গণটিকা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। যদি এ রকম পরিকল্পনা হয়, সেটি আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে।’