তিনজনের প্রাণহানি ও কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ছাড়া ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।
ইসি সচিবের মতে তারা যেসব তথ্য পেয়েছেন, তাতে তারা মনে করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আর প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে কিছু প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার কারণে।
প্রাণহানি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুব বেদনাদায়ক, দুঃখজনক ঘটনা যে মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ায় একজন করে দুজন নিহত হয়েছে। এছাড়া ২৪ জন লোক বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন। এছাড়া মোটামুটি সব জায়গায় আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। আপনারা জানেন, পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। ইভিএমে ইউনিয়নে ৫০ শতাংশ এবং পৌরসভায় ৫০ শতাংশে বেশি ভোট পড়েছে। আর ব্যালটে ৬৫ শতাংশের হবে বলে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল রাতে (রবিবার রাতে) যেটা হয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে একজন বৃদ্ধ মহিলা কোনোভাবে ধাক্কা খেয়ে নিহত হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। এটি তদন্ত করে দেখার জন্য বলেছি।’
ইসি সচিব জানান, কুতুবদিয়ায় একদল সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি করে, সর্বোচ্চভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইউপি নির্বাচন দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না মন্তব্য করে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এলাকার সব মানুষ অংশগ্রহণ করে। তারা খুব বেশি ইমোশনাল হয়ে যায়। তখনই এই দ্বন্দ্বগুলো হয়ে যায়। আমরা যা দেখলাম, যে ঘটনা ঘটেছে সেগুলো খতিয়ে দেখব। ভবিষ্যতে যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকব।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে তা বলব না। কেউ ভোটে অংশ না নিলে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সব নিয়ম না মানলে কিংবা কেউ প্রার্থিতা তুলে নিলেও অন্য একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে।’