জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছে। ঘটনা সম্পর্কে তার জানা ছিল না। তথ্যমন্ত্রীও বোধহয় কিছু জানতেন না। তবে বিষয়টি জানার পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলাপ করেছেন। গভর্নরও একটি চিঠির কথা বলেছেন। চিঠির উৎপত্তি কোথা থেকে সেটাও দেখা হচ্ছে। একটা ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে হয়তো চিঠিটা দেওয়া হতে পারে। তবুও চিঠিটা এভাবে দেওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করেন তিনি।’ গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, ওমর ফারুক, ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় অবশ্যই আপনাদের সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে। এ জন্য মনে কষ্ট ও ব্যথা পেয়েছেন। তবে কোথা থেকে কীভাবে এমনটি হয়েছে, সেটি আরেকটু খতিয়ে দেখা হবে। এরপরও এ ব্যাপারে কিছু না করতে পারলেও পরবর্তীতে এমনটা যাতে না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি নিয়ে সকলের সঙ্গে আলাপ করেছি। এনএসআই, সিআইডি, এসবি, বাংলাদেশ ব্যাংক সবার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আগামীকাল সরকারি কাজে রূপপুর যাচ্ছি, সেখান থেকে ফিরে এ বিষয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেগুলো দেখা হবে। এ মুহূর্তে আপনাদের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত যে, চিঠিটি অপ্রত্যাশিত।’
গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিক সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। ব্যাংক হিসাব তলব করা সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি এম আব্দুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি আবদুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান।