আলমারির চাবি না দেওয়ায় অধ্যক্ষকে মারলেন প্রভাষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সহকর্মীদের হাতে শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু জামাল বাদী হয়ে তিন প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত প্রভাষকেরা হলেন হুমায়ুন কবির মোল্লা, মো. ফারুক হোসেন ও মো. রফিকুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে অধ্যক্ষ মো. আবু জামাল অফিস কক্ষে বসা ছিলেন। এ সময় প্রভাষক হুমায়ুন কবির মোল্লার প্ররোচনায় প্রভাষক ফারুক হোসেন এবং প্রভাষক রফিকুল ইসলাম কলেজের ক্যাশ ও সার্টিফিকেট রক্ষিত আলমারির চাবি তার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যেতে চায়। তিনি (অধ্যক্ষ) চাবি দিতে না চাওয়ায় ওই দুই প্রভাষক তাকে একাধিকবার ধাক্কা মেরে লাঞ্ছিত করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি অফিস কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে ওই প্রভাষকেরা তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখে। ঘটনা দেখতে কলেজের পিয়ন জামাল মিয়া অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। উপায়ন্তর না দেখে কলেজ অধ্যক্ষ বিষয়টি মোবাইল ফোনে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর চেষ্টা করলে ওই প্রভাষকেরা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে হইচই শুনে কলেজের প্রভাষক ওয়াহিদ সারোয়ার, আমজাদ হোসেন, ফয়জুন্নেসা লিজা, আরিফ রাব্বানীসহ অন্যরা এগিয়ে এসে অধ্যক্ষকে রক্ষা করে। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

অভিযোগে আরও জানা যায়, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির মোল্লা রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে এর আগেও কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন প্রভাষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যান্য শিক্ষকেরা কলেজে আসতে আতঙ্ক বোধ করছে। এতে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হচ্ছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি জোর করে কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে ক্যাশ ও সার্টিফিকেট কক্ষের চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার তার কাছ থেকে চাবি পুনরুদ্ধার করেন। এ নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘ইউএনও উদ্ধার করলেন চাবি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রভাষক জানান, হুমায়ুন কবির মোল্লা, রাজনীতি ও স্থানীয় প্রভাব খাঁটিয়ে অন্যান্য অধ্যাপকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

ভুক্তভোগী প্রভাষক ও নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ফয়জুন্নেসা লিজা হুমায়ুন কবির মোল্লার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে অভিযুক্ত প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, কলেজে শিক্ষকদের একটি সভা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সভা দিতে আপত্তি করেন। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে পড়ি। এ নিয়ে তার (অধ্যক্ষ) সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু জালাম অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।