বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
গতকাল মঙ্গলবার নাইমুল আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমানের এক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ রুল দেয়।
আদালত নাইমুল আবরারের পরিবারকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, পত্রিকার কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক, ট্রান্সকম লিমিটেড, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুলসহ ছয় বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুল জারির বিষয় দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এসএম আবদুর রউফ।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত। পরে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান ওই বছরের ৬ নভেম্বর প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়।
গত বছর ১২ নভেম্বর নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। একই সঙ্গে আনিসুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মতিউর রহমান ছাড়া মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মহিতুল আলম, পত্রিকার হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহপরান তুষার, শুভাশীষ প্রামাণিক, জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার। তারা সবাই জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ গঠনে বিচারিক আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন মতিউর রহমান। গত বছর ১৩ ডিসেম্বর তার বিচারিক কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।