কাবুল সফরে তিন দেশের কূটনীতিক

নারী সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি তালেবানের

চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষ দূত আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবান সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে পিটিআই।

এসব বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টের আফগানবিষয়ক বিশেষ দূত জামির কাবুলোভ, পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাদিক খান ও চীনের প্রতিনিধি ইউ জিয়াওয়ং নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তালেবানের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, অর্থমন্ত্রী হেদায়েতুল্লাহ বদরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঝাও লিজিয়ান জানান, তিনজন বিশেষ দূত মঙ্গল ও বুধবার কাবুল সফর করেন। তালেবানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আখুন্দসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ দমন ও মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, বৈঠকে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তিন দেশের কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। দূতদের তালেবান আরও বলেছে, মেয়েদের শিক্ষায় কোনো বাধা থাকবে না। কিন্তু তা হবে শরিয়াহ অনুসারে।

বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চীন ও রাশিয়ার দূত। কূটনীতিকরা স্থানীয় বাজার ও মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখার কথা জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করতে চাইছে দেশ দুটি। সম্ভাব্য এই গ্রুপে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান রয়েছে।

জাতিসংঘের জরুরি তহবিল উন্মুক্ত : আফগানিস্তানের দুর্দশা কাটাতে জরুরি তহবিল উন্মুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সহায়তা বিভাগের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস গত বুধবার বলেছেন, আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ঠেকাতে তিনি সাড়ে ৪ কোটি ডলার জরুরি তহবিল উন্মুক্ত করেছেন। আফগানিস্তানে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। মানুষের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে তহবিল উন্মুক্ত করা হয়েছে।’

৯৫ শতাংশ পরিবার ক্ষুধার্ত : কর্মহীনতা বৃদ্ধি, অর্থের অভাব আর মূল্যবৃদ্ধির কারণে আফগানিস্তানে নতুন শ্রেণির ক্ষুধার্ত মানুষ তৈরি হচ্ছে। গত বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, প্রথমবারের মতো গ্রামাঞ্চলের মানুষের মতো একই হারে খাদ্য অনিশ্চয়তায় পড়ছেন শহরের বাসিন্দারাও। ডব্লিউএফপি’র সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আফগানিস্তানের মাত্র ৫ শতাংশ পরিবারে প্রতিদিন খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি চীনের : আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গত বুধবার জি-২০ গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এ দাবি জানান।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আফগানিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশটির সম্পদ আর সেগুলো দেশটির জনগণের জন্য ব্যবহার হতে দেওয়া উচিত। এগুলো দেশটির ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হতে দেওয়া উচিত নয়।’