কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া দরবেশপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে রাজু আহম্মেদ (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রাজু আহম্মেদ দরবেশপুর গ্রামের মুন্তা মণ্ডলের ছেলে।
বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১টার সময় নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন বলে পরিবার জানায়।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রতিদিনের মতো রাজু বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর গ্রুপের একদল সমর্থক পুরো বাড়ি ঘেরাও করে রাজুকে তার ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে পিস্তল ঠেকিয়ে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে পরিবারের লোকজন রাজুকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাজু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ৯নং সাধারণ আসনের সদস্য মামুন অর রশিদ গ্রুপের সমর্থক ও নিকটাত্মীয়।
এ বিষয়ে মামুন অর রশিদের অভিযোগ, বক্কর আলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান রানিং কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। অথচ হঠাৎ করে সে এলাকায় নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা বলে দাবি করে নানা অপরাধ সংগঠনের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে আবু বক্করকে মোবাইল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম জানান, কয়েক মাস ধরে ভাদালিয়া দরবেশপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় মামুন ও বক্কার গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চলে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুই গ্রুপের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রাজু আহম্মেদ মামুন গ্রুপের সমর্থক জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।