জন্মসনদ নিতে ভোগান্তি চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নাগরিক রোমেনা রশিদ রিনা সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় ৮-১০ দিনের কথা বললেও তিন মাস পরও হাতে পাননি জন্মসনদ। এখন জন্মসনদ না পাওয়ায় সন্তানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। শুধু রিনা নন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার গাফিলতিতে জন্মসনদ না পেয়ে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন অন্য নাগরিকরাও।

দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে স্কুলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে চুয়াডাঙ্গার দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধা যাচাই ভর্তি পরীক্ষার সময়। এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্মসনদের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু দুই-তিন মাস ধরে অভিভাবকদের নাম সংশোধন করতে দিলেও সেই পত্র পাওয়া যাচ্ছে না পৌরসভায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে জন্মসনদের কার্যক্রম শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদেরÑএমনটাই বলছেন শিক্ষকরা।

অভিভাবকরা বলছেন, পৌরসভার জন্মনিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা অদক্ষ কর্মীদের অবহেলার কারণে এমনটা হচ্ছে।

শহরের রেলবাজারের সোহেল আহমেদ নামের এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বারবার পৌরসভায় এসে তদবির না করলে বছরেও জন্মসনদ পাওয়া যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার দায়িত্বশীল দুজন কর্মী বলেন, পৌরসভায় জমা দেওয়া অনেক অভিভাবকের জন্মনিবন্ধনের প্রচুর কাগজ সংশোধন করতে জমা পড়েছে। যার অধিকাংশ পড়ে আছে পৌরসভার আলামারিতে। আলমারিতে থাকা জন্মসনদগুলো এখনো সংশোধন করতে হাত দেওয়া হয়নি। এরপর রয়েছে সন্তানের নতুন জন্মসনদের আবেদন।

সুজনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পৌরসভার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অবহেলার কারণে শিশুশিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন জানান, জন্মনিবন্ধন শাখায় কাজের চাপ বাড়ায় অন্য শাখা থেকে লোকবল সংযোজন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অচিরেই এ সমস্যা কেটে যাবে।