আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন সদস্যের বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনে একজন বিচারপতির নাম চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর নিয়োগেরও চিন্তাভাবনা চলছে।
গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বিচারকের নাম চেয়ে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের বিধান অনুযায়ী তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে বিচারকাজ পরিচালিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. আমির হোসেন (৬৪) গত ২৪ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের এ পদটি শূন্য হয়। প্রসিকিউটররা জানান, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কোনো বিচারকের মৃত্যু হলে এবং নতুন বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ শুরু করা যায় না।
এদিকে গেল বছর মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে অনেকটা অচলাবস্থা চলছে। এ সময়ে বিচারের মূল কাজ অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তি-তর্কের শুনানি প্রায় বন্ধ ছিল। প্রসিকিউটরদের অনেকে বয়সে প্রবীণ হওয়ায় সংক্রমণের এ সময়ে তারা ট্রাইব্যুনালে সরাসরি এসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারছেন না। গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) জেয়াদ আল মালুম (৬৮)। এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছর ২৯ নভেম্বর মারা যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান (৭০)। গুরুত্বপূর্ণ পদের এ তিনজনের মৃত্যু বিচার প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাহত করেছে বলে জানান প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে বিচারপতি আমির হোসেনের মৃত্যুতে বিচারকাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতির নাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমরা প্রসিকিউশন শাখায় প্রসিকিউটর নিয়োগের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছি।’