সবচেয়ে বড় নীল হীরা হিসেবে পরিচিত ফ্রেঞ্চ ব্লু। দক্ষিণ ভারতের এক খনিতে এটি পাওয়া গিয়েছিল। সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের কাছে ফরাসি ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী জ্যঁ ব্যাপটিস্ট তাভেরনিয়ার এ হীরাটি বিক্রি করেন। ফরাসি বিপ্লবের সময় হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় ফ্রেঞ্চ ব্লু। ফ্রেঞ্চ ব্লু নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ফ্রেঞ্চ ব্লু
১৭৯২ সাল। উত্তাল ফ্রান্সে বিপ্লবের শোরগোল। অর্থনৈতিক মন্দা আর সামাজিক অস্থিরতার চূড়ান্ত রূপ দেখছে ফ্রান্স। সে অস্থিরতা বিপ্লবে রূপ নিল। ফরাসি বিপ্লবের দামামা বেজে উঠতেই ১১ সেপ্টেম্বর চুরি হয়ে যায় ফরাসি রাজমুকুট। স্বভাবতই ফরাসি রাজমুকুটে বসানো ছিল অসংখ্য দামি দামি রতœ। কিন্তু তার মধ্যে একটি রত্ন ছিল একেবারে আলাদা। উজ্জ্বল গাঢ় নীল রঙের একটি হীরা। ফরাসি রাজপরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বলে হীরাটি সবার কাছে ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজমুকুটের সম্মুখভাগের মাঝখানে বসানো ছিল ফ্রেঞ্চ ব্লু। ফরাসি বিপ্লবের ঐ চরম মুহূর্তে রত্নসমেত মুকুট খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্য সব রতেœর কথা বাদ দিলেও মুকুট চুরি হওয়ার পরপরই মাঝে সবার চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নীল রঙের হীরা। তিন বছর পর ১৭৯৫ সালে কিছু রত্নসহ খুঁজে পাওয়া যায় সেই মুকুট। কিন্তু সেই ফরাসি নীল হীরা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ফরাসি নীল হীরার ভাগ্যে কী ঘটেছিল কেউ জানে না। এরপরে বহুবার বহুস্থানে ফ্রেঞ্চ ব্লু উদয় হয়েছে। কোথাও গুজব, কোথাও আবার কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যে সে জিনিস অদৃশ্যও হয়ে গেছে। কিন্তু কোনোভাবেই তার ঠিকঠাক হদিস পাওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ জানে না কার কাছে সেই মূল্যবান রত্ন সংরক্ষিত আছে।
ভারত থেকে ফ্রান্স যাত্রা
মূল্যবান রত্ন ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। প্রাচীন ধারণামতে বলা হয়ে থাকে, মূল্যবান রত্ন অভিশপ্ত হয়। তবে ফ্রেঞ্চ ব্লুর প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না বলে এ ধারণা অনেকাংশেই সত্য বলে মনে হতে পারে। ফরাসি রাজপরিবারের দর্শনীয় একটি রত্ন এটি। অতিবেগুনি রশ্মির নিচে রাখা হলে এটি লাল আলো বিচ্ছুরণ করে আর লাল সবার কাছেই অভিশপ্তের রং হিসেবে পরিচিত। সবমিলিয়ে অন্যান্য দামি রতে্নর মতো আলোচনা-সমালোচনায় মুড়ে আছে এই ফ্রেঞ্চ ব্লু।
বেশিরভাগ হীরাই স্বচ্ছতার জন্য মূল্যবান। ঝকঝকে ঔজ্জ্বল্য ছাড়াও আকৃতির জন্য এক একটি হীরার মূল্য নির্ধারিত হয়। ফ্রেঞ্চ ব্লু ঠিক এ জায়গাতেই আলাদা। রংহীন স্বচ্ছ নয়, তার গাঢ় নীল রঙের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও বড়সড় আকৃতির জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। ১১৫ ক্যারেট ওজন ছিল এ হীরার।
প্রকৃতিতে খুঁজে পাওয়া ভারী হীরার মধ্যে অন্যতম ফ্রেঞ্চ ব্লু। কেটে ছোট করার আগ পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় নীল হীরা। এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল দক্ষিণ ভারতে। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কল্লুর খনি থেকে এর উৎপত্তি। খনির ঐতিহাসিক তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, ভূ-গর্ভস্থ যে খনি থেকে কোহিনুরের উৎপত্তি, সেই একই খনি থেকে ফ্রেঞ্চ ব্লুর জন্ম। উৎপত্তিস্থলের কথা উল্লেখ করার সময় ফ্রেঞ্চ ব্লু নামটি ঠিক মানানসই নয়। ফরাসিদের কাছে এর নাম ‘বিজু দু হোয়া’ বা রাজার রত্ন। পাশ্চাত্য সংবাদ মাধ্যমের দেওয়া বয়ানে বিশ্বাস করলে অবশ্য চমকে উঠতে হয়। জানা যায়, ভারতে একটি হিন্দু মন্দিরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মূর্তির চোখে প্রথম স্থান পেয়েছিল এ হীরাটি।
এরপর বহু হাত ঘুরে সপ্তদশ শতাব্দীতে ফরাসি ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী জ্যঁ ব্যাপটিস্ট তাভেরনিয়ার হীরাটি কিনে নেন। তার হাত দিয়ে ফরাসি ইতিহাসে এ নীল হীরার পথচলা শুরু হয় বলে অনেকের কাছেই এ হীরা তাভেরনিয়ার ব্লু নামেও পরিচিত। জ্যঁ ব্যাপটিস্ট তাভেরনিয়ার ১৬৬৮ সালে চতুর্দশ লুইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন এ হীরাটি। ১৬৭৩ সালে রাজা চতুর্দশ লুই ফরাসি রাজমুকুটে স্থান দেওয়ার কথা ভাবেন। মুকুট জহুরি জ্য পিটাউয়ের হাত দিয়ে সে হীরা স্থান পায় রাজমুকুটে। মুকুটে স্থান পাওয়ার পর থেকেই এ হীরা ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হীরাটি ফরাসি পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হাতবদল হতে থাকে। ফরাসি রাজার ইচ্ছেয় সে হীরাটি রাজমুকুটে স্থান পায়। রাজমুকুটে বসানোর সময় এটি ছিল ৬৯ ক্যারেট। উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এটিকে কেটে ছোট করা হয়। সোনায় পরিবেষ্টিত অবস্থায় সে রত্ন যে কারও নজর কাড়তে সক্ষম। ষোড়শ লুই ১৭৪৯ সালের দিকে ‘অর্ডার অব দ্য গোল্ডেন ফ্লিস’ নামের একটি বিশেষ আদেশের মধ্য দিয়ে ফ্রেঞ্চ ব্লুকে ফরাসি রাজবংশের বিশেষ ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বিজয়ের বিনিময়ে ঘুষ
ফ্রেঞ্চ ব্লু ফ্রান্সে পৌঁছানোর প্রায় ৪০ বছর পর রাজা ষোড়শ লুই ও তার অস্ট্রিয়ান রানী মারি এন্টোনেটের মালিকানায় চলে আসে ফ্রেঞ্চ ব্লু। ১৭৯১ সালে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ধরা পড়েন তারা। ফরাসি বিপ্লবের উত্তাল মুহূর্তে রাজা ও রানীকে আটক করা হয়। বন্দি হওয়ার পর ফরাসি রাজকোষ থেকে নতুন সরকারের জিম্মায় দেওয়া হয় সমস্ত ধনরত্ন।
এক পর্যায়ে রাজপরিবারের ওপরে ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করা শুরু করে। ১৭৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একদল চোর রাজকোষের গুরুত্বপূর্ণ রতœ চুরির জন্য রাজপ্রাসাদে ঢুকে পড়ে। ৫ রাত ধরে চলে চুরির ঘটনা। বেশিরভাগ ফরাসি দামি দামি রতœসহ চুরি হয়ে যায় রাজমুকুট। এক বছরের মধ্যে রাজমুকুট উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ফ্রেঞ্চ ব্লু এরপর থেকে কোনো পদচিহ্ন ছাড়াই ইতিহাস থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
চোর গিয়োঁ লহডনির অর্ডার অব দ্য গোল্ডেন ফ্লিস নিয়ে প্যারিস ছেড়ে চলে যান। সেখান থেকে ফ্রেঞ্চ ব্লু আলাদা করে ফেলেন। একবার লন্ডনে নির্বাসিত ফরাসি রাজপরিবারের লোকজনের কাছে নাকি বাকি রতœগুলো বিক্রির চেষ্টাও করেন। সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। রাজপরিবারের সবার প্রশ্ন ছিল ফ্রেঞ্চ ব্লু কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে ইতিহাসবিদেরা বিশ্বাস করেন, গিয়োঁ লহডনিরের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ব্লু ছিলই না। পাল্টা প্রশ্ন হাজির হয় তাহলে কোথায় গেল ফ্রেঞ্চ ব্লু? কিছু ইতিহাসবিদের ভাষায়, ১৭৯২ সালে অস্ট্রিয়া ও প্রুসিয়া যখন ফ্রান্স আক্রমণের হুমকি দিচ্ছিল তখন ফরাসি বিপ্লবী সেনাবাহিনীর একান্ত চাওয়া ফ্রান্স বিজয়। ব্রান্সউইকের প্রুসিয়ান ডিউকের নেতৃত্বে, ফরাসিরা আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এরপর ভ্যালমি থেকে রাইনে ফিরে যায়। এ বিজয়ে বৈপ্লবিক গতি ফিরে আসে ও ফরাসি বিপ্লবীদের মধ্যে উদ্দীপনা বেড়ে যায়।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছিল যে, কীভাবে একজন অভিজ্ঞ ও সুসজ্জিত প্রুশিয়ান জেনারেলকে এত দ্রুত পরাজিত করা সম্ভব হলো? তখন জানা গেল, বিপ্লবী নেতারা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই ব্রান্সউইকের ডিউককে ঘুষ দেওয়ার জন্য রত্ন চুরির আয়োজন করেছিল। চুক্তি ছিল ভ্যালমিতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধে হেরে যাওয়ার বিনিময়ে ফরাসিরা তাকে ফ্রেঞ্চ ব্লু উপহার দেবে। অনেকেই সন্দেহ করেন যে, ফরাসি বিপ্লবের কয়েক বছর পর তৎকালীনব্রান্সউইকের ডিউক ১৮০৫ সালে লন্ডনে তার মেয়ে প্রিন্সেস ক্যারোলিনের কাছে ফ্রেঞ্চ ব্লু পাঠিয়ে দেন।
নতুন পরিচয়ে ফ্রেঞ্চ ব্লু
হারিয়ে যাওয়ার পর, প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত কোথাও ফ্রেঞ্চ ব্লুর নামই শোনা যায়নি। হঠাৎ করেই একটি নীল হীরা রত্ন জগতে আলোড়ন তোলে। খুব ছোট আকারের একটি নীল হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। ১৮১২ সালে লন্ডনের ড্যানিয়েল এলিয়াসন নামের এক ব্যবসায়ীর হাত দিয়ে সেই নীল হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। কীভাবে এই নীল হীরা তার কাছে এলো বা কে তার কাছে এটি বিক্রি করেছিল সে বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। ড্যানিয়েল এলিয়াসন একজন জহুরি জন ফ্রেন্সিলনকে নীল হীরাটি দেখান। জন সে হীরার একটি স্কেচ আঁকেন। তার কাছ থেকে জানা যায়, ড্যানিয়েলের এ হীরার ওজন ৪৫.৫২ ক্যারেট, তবে সে হীরা গভীর নীল রঙের এবং সেখানে কোনো দাগ বা প্রাকৃতিক ত্রুটি দেখা যায়নি। মানুষের সন্দেহের তীর এবার ড্যানিয়েলের নীল হীরার দিকে। ‘ত্রুটিহীন হীরা’ হওয়ায় এটি যে ফ্রেঞ্চ ব্লুই সে ব্যাপারে অভিজ্ঞজনরা একমত। এবারে ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন যে, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন পরে এটি আবার প্রকাশিত হয় যে, হীরাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। সে সময়ের উত্তাল সময়ে এ ধরনের হীরা রাজপরিবারের কাছে রাখা মানে বিপদ বাড়িয়ে তোলা।
আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলে ফ্রেঞ্চ ব্লুর বদলে এই নতুন নীল হীরা ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এবার রেকর্ড ঘেঁটে জানা গেল এক ব্যাংকারের মালিকানায় রয়েছে এই নীল হীরাটি। ব্যাংকারের নাম হেনরি ফিলিপ হোপ। এবার এ হীরার নাম হয়ে দাঁড়ায় ‘হোপ ডায়মন্ড’। হোপ পরিবার ১৯০১ সালে নীল হীরা বিক্রি করে দিলে ১৯১২ সালে আমেরিকান উত্তরাধিকারী ইভালিন ওয়ালশ ম্যাকলিনের সংগ্রহে আসে এটি। ১৯৪৭ সালে তার মৃত্যুর পর জহুরি হ্যারি উইন্সটন হোপ ডায়মন্ড কিনে নেন। তিনি ১৯৫৮ সালে স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে হোপ ডায়মন্ড দান করে দেন।
সন্দেহ বনাম সত্যি
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে এসেছেন যে, হোপ ডায়মন্ড আর হারিয়ে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ব্লুর রং একই এবং আসলে দুটো হীরাই একই জিনিস। শুধু কালের আবর্তনে ভিন্ন নাম ধারণ করেছে। চুরির ২১৩ বছর পর ২০০৫ সাল পর্যন্ত এ সন্দেহের সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তারা। ন্যাশনাল জেম কালেকশনের স্মিথসোনিয়ান তত্ত্বাবধায়ক জেফ্রি পোস্ট ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ তা সপ্তদশ শতকের বিবরণ, ফ্রেঞ্চ ব্লুর স্কেচ দেখে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও হোপ ডায়মন্ড স্ক্যান করে কম্পিউটার মডেলিং-এর মাধ্যমে এবারে প্রমাণ হাজির করেন। তাদের গবেষণায় জানা যায় যে, হোপ ডায়মন্ড আসলে ফ্রেঞ্চ ব্লু না, এটিই সেই প্রাচীন ইন্ডিয়ান ব্লু। দুই দফায় কাটার পরে ভারত থেকে উদ্ভূত হীরাটির নাম কালের আবর্তনে ফ্রেঞ্চ ব্লু থেকে বদলে হয়ে দাঁড়ায় হোপ ডায়মন্ড।
২০০৭ সালে প্যারিসের মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে একটি চ্যাপ্টা আকৃতির হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। যার উৎপত্তি খুঁজলে পাওয়া যায় ফ্রেঞ্চ ব্লুকেই। এ জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক ফ্রানসোইস ফার্জেস লিখেছেন ঊনবিংশ শতাব্দীর ক্যাটালগের সঙ্গে যে যোগসূত্র পাওয়া যায় তা ফ্রেঞ্চ ব্লুকেই ইঙ্গিত করে। এতে লেখা আছে, এই হীরার গল্প ব্যাংকার হেনরি ফিলিপ হোপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যা খুব স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, শেষবারের মতো কেটে ছোট করার আগে হেনরিকে প্রথমে ফ্রেঞ্চ ব্লু জোগাড় করতে হয়েছিল।
আরেক দলের মতে ফ্রেঞ্চ ব্লুর আরেক অংশ হাতে হাতে ঘুরে চলে যায় রাশিয়ায়। রাশিয়ান সম্রাট পল তার স্ত্রী মারিয়া ফিওডোরোভনাকে এই হীরা উপহার দিয়েছিলেন। সম্রাজ্ঞী মারিয়ার আংটিতে মূল্যবান রত্ন হিসেবে বসানো হয় এই ফ্রেঞ্চ ব্লু। ১৮৬০ সালে তার পুত্রবধূ সম্রাজ্ঞী আলেকজান্দ্রা ফিওডোরোভনা এই হীরাটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দান করেন। একটি ব্রোচের মধ্যে বসানো হয় এই হীরের অংশটুকু। এর ওজন ৭.৬ ক্যারেট। এটি বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশে আলেকজান্ডার প্যালেসে সংরক্ষিত আছে।