লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

করোনা উপসর্গ নিয়ে লক্ষ্মীপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সদর হাসপাতালে মারা যায় জান্নাতুল ফিজা। জান্নাতুল ফিজা রায়পুর উপজেলার সায়েস্তানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও রায়পুর দেবীপুর এলাকার সিএনজিচালক সেলিম উদ্দিনের মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কমলা শীষ রায়।

তিনি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে জান্নাতুলকে সদর হাসপাতালে আনার পর অক্সিজেন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এরপর রাতেই মারা যায় জান্নাতুল ফিজা।

স্বজনরা জানান, মাদ্রাসা খোলার পর রীতিমতো মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করত জান্নাতুল। চার দিন আগে তার শরীরে জ্বর আসে। জ্বরের সঙ্গে কাশি ও সর্দি ছিল। এরপর পল্লীচিকিৎসক দেখিয়ে প্যারাসিটামল ও আর কিছু ওষুধ খাওয়ানো হয় তাকে। যদিও শুক্রবার সকালে জ্বর তেমন ছিল না। সন্ধ্যার দিকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পর জান্নাতুল ফিজাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্ফার জানান, চার দিন ধরে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফিজা জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে ভুগছিল। এ সময় পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ সেবন করেছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আনার পর ১২টার দিকে অক্সিজেন লেভেল শূন্যে নেমে আসে। পরে তার মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্তের এক দিন পর শ্রেণিপাঠদান শুরু : ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা শিশু পরিবারের ১৩ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার শ্রেণিপাঠদান বন্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ক্লাস।

গতকাল সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে থাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়। এরপর দূরত্ব বজায় রেখে শ্রেণিপাঠদান শুরু হয়। গত শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে পাঠদান শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।

গত বুধবার ১৩ জন শিক্ষার্থীর দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে শহরের বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী, হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচ এবং সোনালী শৈশব বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভীন জানান, সরকারি নির্দেশনা মতে শ্রেণিপাঠদান নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি শিশু পরিবারের মোট ৩৭ জন ছাত্রী তার বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। যেহেতু ওই পরিবারের ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত , তাই অন্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে পাঠদান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই গত বৃহস্পতিবার শ্রেণিপাঠদান বন্ধ রাখার পর পুনরায় পাঠদান শুরু হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের এবং তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে, তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছে বলে জানান তিনি।

সরকারি শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।