রাজধানীর পরীবাগে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর (৩২) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে তার পরিবারের মামলা নিয়েছে পুলিশ। ইভানার বাবা এ এস এম আমান উল্লাহ চৌধুরীর করা অভিযোগটি গতকাল শনিবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা আকারে নথিভুক্ত করে শাহবাগ থানা পুলিশ। যার নম্বর ৪১। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান মামলার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার আমান উল্লাহ চৌধুরী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও তা সেদিন মামলা আকারে গ্রহণ করেনি পুলিশ। তবে গতকাল তাকে থানা থেকে ডেকে পাঠিয়ে রাতে অভিযোগটি মামলা আকারে নথিভুক্ত করা হয় বলে ইভানার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত শুক্রবার থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আজ (গতকাল শনিবার) রাতে সেই অভিযোগ মামলা আকারে নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছি।’
তিনি জানান, মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ইভানার স্বামী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লা।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল।
ইভানার বাবার করা মামলার এজাহারে তিনি মেয়ের মৃত্যুর জন্য তার (ইভানার) স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেওয়ায় চিকিৎসককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই চিকিৎসকের (নেফ্রোলজিস্টের) পরামর্শপত্র অনুযায়ী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইভানাকে গত এক বছর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইভানা তার বন্ধুদের জানান, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার স্বামী রুম্মান তাকে (ইভানাকে) ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন।
ইভানার পরিবারের অভিযোগ, ইভানা ও তার স্বামীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ইভানার শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ইভানার বাবাকে। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের লাশ পান।