নড়াইলের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষক হাসপাতালে এবং অন্যরা বাড়িতে চিকিৎসাধীন। এছাড়া আরও একজন শিক্ষক করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। আক্রান্তরা লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ৩৩নং হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নড়াইল দক্ষিণপূর্ব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এদিকে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তার নাম আবির যাওয়াদ। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো এবং সে নিজ বাড়িতেই রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার ষষ্ঠ শ্রেণির ‘খ’ শাখার ওই ছাত্রের শরীরে উপসর্গ ছিল। এজন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তার বাবা রাজশাহী কলেজের শিক্ষক।
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্কুলে গিয়ে নয়, ওই শিক্ষার্থী পরিবারেই করোনা সংক্রমিত হয়েছে। কারণ তার দাদিসহ আরও দুজন করোনা রোগী বাড়িতে ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই সে আক্রান্ত হতে পারে। এজন্য তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. নূরজাহান বেগম এ কথা জানান। তিনি বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনই ওই ছাত্র স্কুলে গিয়েছিল। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়। বর্তমানে সে ভালো এবং বাড়িতেই আছে। স্কুলের পাঠদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ৩৩নং হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা জোহরা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাঈম পারভেজ মনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া মিথিলা ফারজানা নামে আরও একজন সহকারী শিক্ষিকা জ¦রসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকরা সতর্ক অবস্থায় এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। শিক্ষার্থীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে নড়াইল দক্ষিণপূর্ব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা ইয়াসমিন ও একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তাহমিদ আহমেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হুমায়ুন কবীর জানান, দুটি স্কুলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।