রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস বাদ দিয়ে কেউ যদি নিজ জেলা অথবা উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী অফিসে আবেদন করে তাহলে আগে পাসপোর্ট হাতে পাবেন বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী। তিনি বলেন, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন যে সক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে ১০ গুণ পাসপোর্টধারী ব্যক্তি আবেদন করছেন। যার কারণে এখানে পাসপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। আবার নানা রকম ভুলভ্রান্তির কারণেও পাসপোর্ট আটকে থাকছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ডিআইপি-পাসপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী বলেন, ‘আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে এই মুহূর্তে প্রতিদিন পাসপোর্ট দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে প্রায় দুই হাজার। কিন্তু প্রতিদিন আবেদন পড়ছে কয়েক গুণ। আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়াও কম্পিউটারে অটো করা রয়েছে। যার কারণে কেউ যখন আবেদন করে ওই দিনের শ্লট শেষ হয়ে থাকলে পরের দিনের শ্লট নিয়ে নেয় অটোমেটিক্যালি। পরের দিনেরটাও শেষ হলে তার পরের দিন পূরণ হবে। এভাবে আজ পর্যন্ত (গতকাল) যারা আবেদন করেছেন তারা শ্লট পেয়েছেন আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এই পদ্ধতিতে কারও হাত নেই। তিনি আরও বলেন, আগারগাঁওয়ে যারা আবেদন করবেন তারা এভাবেই অনেক দিন পরে শ্লট পাবেন। কিন্তু তারা যদি আগারগাঁওয়ে না এসে যাত্রাবাড়ী বা উত্তরায় যান, তাহলে এখানকার চেয়ে আগে পাসপোর্ট হাতে পাবেন। আবার কেউ যদি নিজ জেলায় আবেদন করেন, তাহলে সেখান থেকে আরও আগে পাসপোর্ট হাতে পাবেন। যেমন আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে যারা আবেদন করেছেন, তারা শ্লট পেয়েছেন ৬ অক্টোবর এবং যাত্রাবাড়ীতে যারা আবেদন করেছেন, তারা শ্লট পেয়েছেন ৩ অক্টোবর। আর জেলাগুলোতে পরের দিনই আবেদন ফরম জমা করা ও ছবি তোলার দিন ধার্য হচ্ছে। এ জন্য বলছি, আপনারা পারলে নিজ জেলায় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন। যাদের তাড়াহুড়ো আছে তারা আগেই পাসপোর্ট হাতে পাবেন। মেশিনে নতুন করে কমান্ড নির্ধারণ করার কোনো সুযোগ নেই। কমান্ড দিয়েই আমাদের মেশিন তৈরি। এখানে সবকিছু মিলে গেলে অটো পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে যায়। যাদের পাসপোর্ট আটকে আছে তাদের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। তারা অফিসে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করে দিলে তবেই পাসপোর্ট প্রিন্ট হবে।’ পাসপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের নেতাদের সঙ্গে ডিজির মতবিনিময়ের সময় সাধারণ জনগণের পাসপোর্টসংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। ডিজি সবার সমস্যার কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এর মধ্যে পাসপোর্ট অফিসে অধিক ভিড়ের কারণ হিসেবে ডিজি বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে কয়েকগুণ ব্যক্তি পাসপোর্ট করতে চলে এসেছেন। যারা আসছেন তাদের মধ্যে এক শ্রেণির হলেন ই-পাসপোর্টধারী, এক শ্রেণি এমআরপিধারী ও আরেক শ্রেণি সমস্যার সমাধান ও তথ্য জানতে আসেন। আবার অনেকে আসেন ভুল আবেদন এবং এনআইডির পরিবর্তে জন্মনিবন্ধন নিয়ে। এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, যত দিন পর্যন্ত শতভাগ ই-পাসপোর্ট দেওয়ার ক্যাপাসিটি অর্জন সম্ভব হবে না, তত দিন এমআরপি চালু থাকবে। তবে বাংলাদেশে আমরা এমআরপি নিরুৎসাহিত করছি। এখন যেসব এমআরপি দেওয়া হচ্ছে তার ৯৯ ভাগ প্রবাসী। প্রবাসীদের এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যে ৭৫টি মিশনে এখনো ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করা যায়নি। করোনা অনেকখানি পিছিয়ে দিয়েছে। এখনো অনেক দেশ অনুমতি দেয়নি আমাদের টিম পাঠানোর জন্য। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি মিশনে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিআইপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) সেলিনা বানু, পরিচালক (প্রশাসন) শিহাব উদ্দিন খান, উপপরিচালক, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক কর্নেল নুরুস সালাম, উপপরিচালক (প্রশাসন) ইসমাইল হোসেন, উপপরিচালক (অর্থ) আল আমিন মৃধা, পাসপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আছাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সহসভাপতি জামিউল আহসান সিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক নেহাল হাসনাইন, অর্থ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন জিসান ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জামিল খান।