ঢাবিতে ভর্তিযুদ্ধ প্রাণ ফিরল অন্য ক্যাম্পাসেও

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রায় এক বছর অপেক্ষায় থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিল ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের আট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এই ভর্তিযুদ্ধ।

এবার ‘ক’ ইউনিটের ১ হাজার ৮১৫টি আসনের বিপরীতে এবার ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ শিক্ষার্থী। এই হিসাবে ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের জন্য প্রার্থী গড়ে ৬৫ জন। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়েছিল, তাই সকাল থেকেই ভর্তিচ্ছুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ঢাকাসহ উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরীক্ষা হবে। 

২০২০ সালের এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মহামারীকালে সেই পরীক্ষা কয়েক দফা পেছানো হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরীক্ষাও আর হয়নি। শিক্ষার্থীদের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল গড় করে এইচএসসির মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয় এ বছর জানুয়ারিতে। সব ঠিক থাকলে ২০২০ সালের অক্টোবর-নভেম্বরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে যেত। কিন্তু মহামারীর কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে এক বছর অপেক্ষার পর, ২০২১ সালের অক্টোবরে।

২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট, ২২ অক্টোবর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিট এবং ২৩ অক্টোবর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগ পরিবর্তনের সমন্বিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটের ৭ হাজার ১৪৮টি আসনের বিপরীতে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন এবার।

‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ইউনিটের সমন্বয়ক ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমবারের মতো সারা দেশে বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র করে পরীক্ষা নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই সব ধরনের বিষয় মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। গতকালই আমাদের শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন। বিভাগীয় শহরের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের সহযোগিতা করছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা রাজধানীর বাইরে হওয়ায় অনেক খুশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এতে তাদের সময়, অর্থ এবং দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ঢাকার বাইরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হলের মধ্যেও করোনা সুরক্ষায় ছিল নানা ব্যবস্থা।

পরীক্ষার বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উপকেন্দ্র ও এর অধীন শহরে আরও ৩টি কেন্দ্রে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এটা ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ, এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ঢাকায় যেতে যে ভোগান্তি ও আর্থিক ব্যয় হয় তা থেকে এবার তারা পরিত্রাণ পাচ্ছেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এই বিভাগীয় শহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কোথাও কোনো প্রশ্ন ফাঁস কিংবা জালিয়াতির সুযোগ নেই। যারা এর আগে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে, তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে বহিষ্কার করা হয়েছে। দুদিন আগেও দুজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে একই প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষাগুলোতেও কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা থাকবে না। এক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি। সব জায়গায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ আমাদের সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয়ে সহায়তা করছেন।’