রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিলেন ছাত্ররা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার ১৪ শিক্ষার্থী। কমিটি গতকাল রবিবার সকাল থেকে দিনভর ৫০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। এদিন প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে প্রত্যেককে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিশ^বিদ্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল নির্যাতিত ১৩ ছাত্র কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে ও অসুস্থ এক ছাত্র হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ১৫ শিক্ষার্থী, ৩ শিক্ষক, ৫ কর্মচারী ও ৫ জন অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া গত ৩ বছরে ওই শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেন বিভিন্ন বিভাগের আরও ৮ শিক্ষার্থী। তবে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হননি অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন।

পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের দাবি করায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিক ফারহানা ইয়াসমিন। এ ঘটনায় নাজমুল হাসান তুহিন নামের এক ছাত্র ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ওই শিক্ষিকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও অনশনের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি এ ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেসসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে শনিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলন শিথিল করেন। এ ছাড়া গতকাল সকাল থেকে দিনভর তারা একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষিক ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান থেকে পিছু হটবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর ও শামীম হোসেন বলেন, ‘তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বরখাস্ত করা না হলে আমরা আবারও কঠোর আন্দোলন শুরু করব।’

তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের প্রক্টর লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, এখনো তদন্তের কাজ শেষ হয়নি। তদন্ত চলছেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ-সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, তদন্ত চলছে। এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।