বিশেষ সুবিধা

এককালীন ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছাড়

বিশেষ সুবিধার আওতায় খেলাপি ঋণ এককালীন পরিশোধে (ওয়ান টাইম এক্সিট) করোনার ছাড় ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে যেসব খেলাপি গ্রাহক এক্সিট সুবিধার আওতায় ২০২০ সালে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে পারেননি তারা সেই টাকা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করলে এই সুবিধা বহাল থাকবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ ‘ঋণ শ্রেণিকরণ’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। সার্কুলারে বলা হয়, কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলায় এককালীন এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ঋণ পরিশোধ সহজ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, এককালীন এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে প্রদেয় অর্থ গত বছরে পরিশোধ করার কথা ছিল, তা প্রথমে ২০২১ সালের জুনে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন সেই সুবিধা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে এককালীন এক্সিট সুবিধা নেওয়া গ্রাহকরা গত বছরে যে অংশটুকু পরিশোধ করতে পারেননি তা চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করলে এককালীন এক্সিট সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

চিঠিতে তিনি জানান, বিশেষ সুবিধায় সুদ মওকুফ ও মওকুফোত্তর অবশিষ্ট ঋণ এককালীন পরিশোধের জন্য (এক বছর মেয়াদে) অনেক গ্রাহকের আবেদন ব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণ কমাতে ২০১৯ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়।

ওই নীতিমালায় বলা হয়, খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সরল সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ টানা ১০ বছরে ঋণ পরিশোধ করা যাবে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর ওই সার্কুলারের স্থগিতাদেশ চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালতে একটি রিট মামলা করা হয়। পরে অবশ্য আদালত এ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে রায় দেয়।

এ সুবিধার আওতায় স্বাধীনতার পর থেকে যারা ঋণখেলাপি তাদের এককালীন এক্সিট সুবিধা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তাদের খেলাপি ঋণের হিসাব হয় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এককালীন হিসাবায়ন ভিত্তিতে।

অর্থাৎ ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত খেলাপি ঋণ ছিল তার হিসাব করা হয়। কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করেন এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন, তাহলে সে ব্যবস্থাও রাখা হয় ওই বিশেষ সুবিধায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এককালীন পরিশোধ বা এক্সিট সুবিধা নিয়েছেন ৪ হাজার ২২৫ জন গ্রাহক। এসব গ্রাহককে ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকার এক্সিট সুবিধা দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে ডাউনপেমেন্ট বাবদ ১১৫ কোটি টাকা নগদ আদায় করেছে ব্যাংকগুলো। অবশ্য সুদ মওকুফ করা হয়েছে ১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক্সিট সুবিধা দিয়ে যে টাকা আদায় হবে এর চেয়ে ২৯৫ কোটি টাকার বেশি সুদ মওকুফ করা হয়েছে।

বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিল ও এক্সিট সুবিধা নিয়ে মোট ১৯ হাজার ১১৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করা হয়। এর মাধ্যমে ডাউনপেমেন্ট বাবদ নগদ ৩৩৬ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার পুনঃতফসিলের জন্য সুদ মওকুফ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। যেখানে ডাউনপেমেন্ট হিসেবে নগদ আদায় হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা।