দুই প্রকল্পে ৫ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা দেবে এডিবি

পৃথক দুটি চুক্তির আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে মোট ৬৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা (৮৫ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে দুটি চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং এডিবির বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ ও নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও এডিবির পক্ষে মনমোহন প্রকাশ চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম চুক্তির আওতায় ‘সাসটেইনেবল ইকোনমিক রিকভারি প্রোগ্রাম-সাবপ্রোগ্রাম-১’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২৫ কোটি ডলার এবং ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এর সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে এ সংস্থা তাদের আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশকে দিয়ে আসছে। এডিবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে ২৬.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা এবং ১.০৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানিসম্পদ এবং সুশাসন খাতকে প্রাধান্য দেয়।

মনমোহনের বিদায় নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী : এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) মনমোহন প্রকাশের বিদায়কে অভাবনীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বন্ধু এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। বাংলাদেশিরা মনমোহনের পরিবারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ, কেননা তার বীর পিতা ভারতীয় বিমান বাহিনীর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। আর তিনি তার চার বছরের অসামান্য সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে আমাদের ঋণী করেছেন।

তিনি বলেন, সমকালীন বৈশ্বিক উন্নয়ন বিষয়গুলোতে মনমোহনের বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শী চিন্তাভাবনা সত্যিই বিস্ময়কর, যা অনস্বীকার্য। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের শুভকামনায় মনমোহন যে অকৃত্রিম সমর্থন দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের এবং এডিবির মধ্যে সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মনমোহন দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলেও কার্যত তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তিনি তার কাজের মাধ্যমে জয় করেছেন আমাদের হৃদয় ও মনকে।

এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিংকে নতুন বন্ধু হিসেবে স্বাগত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মি. এডিমন গিন্টিং আমাদের উন্নয়নের নতুন সহযাত্রী। আমি তাকে নিশ্চিত করতে চাই বাংলাদেশে কর্মরত অবস্থায় তিনি আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন। আশা করব তিনিও বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে আমাদের অকৃত্রিম বন্ধুতে পরিণত হবেন।