চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় আনোয়ারা থানা ঘেরাও করে আবদুল্লাহ আল মাসুম (১৯) হত্যার বিচার দাবি করেন তার গ্রাম কৈখাইনের বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এলাকার কয়েকশ মানুষ মাসুমের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ করেন। এরপর আনোয়ারা থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। সেখানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলার সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা তর্র্ক হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য সাগর দত্তের ছেলে দীপ্ত দত্ত মাসুমকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েও থানায় মামলা নিচ্ছে না। এলাকাবাসী হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাগর দত্ত ও তার ছেলে দীপ্ত দত্তের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।
নিহত মাসুমের ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তার বাবা মামলার এজাহার নিয়ে রবিবার থানায় গেলে রাত ৩টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে পুলিশ। থানা থেকে এসে বাড়িতে তার বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত এলাকাবাসী যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। তখনই পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্ক বেধে যায়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাসুম ব্যানার টানাতে বাঁশ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। তারপরও লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে উপজেলার ইছামতি এলাকা থেকে কলেজছাত্র আবদুল্লাহ আল মাসুমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাসুম আনোয়ারা সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।