সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লিন ফিডে চ্যানেল সম্প্রচারিত হয়, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াবেন না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত, সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। করতেও বলেনি। বাংলাদেশেও এটি নিয়ে একটি আইন আছে। আমরা সেই আইন কার্যকর করেছি মাত্র। এ নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াবে, সরকারকে বিব্রত করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও সবার স্বার্থের বিপক্ষে কেউ অবস্থান গ্রহণ করবেন বা তাদের পক্ষে কেউ ওকালতি করবেন এটি কখনো কাম্য নয়। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দেশের গণমাধ্যম শিল্পের সবার স্বার্থে আমরা আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচার বা ক্লিন ফিড বাস্তবায়নের কাজ করছি। যারা দেশের স্বার্থ ও আইন মানে না তাদের পক্ষে ওকালতি কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলগুলো পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় ক্লিন ফিড পাঠায়। আর ক্লিন ফিড পাঠানোর জন্য যে বড় রকমের বিনিয়োগ ও কারিগরি সুবিধা লাগে এসব কথামালা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টারই অংশ। এখন ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এগুলো সহজেই করা সম্ভব এবং সেটি সংশ্লিষ্ট চ্যানেল করতে পারে। এই দায়িত্ব প্রথমত সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের, দ্বিতীয়ত যারা সেই চ্যানেল ডাউলিংক করার অনুমতি নিয়েছেন, তাদের। তারা ব্যবসা করার স্বার্থেই এই সমস্ত চ্যানেল ডাউনলিংক করার জন্য অনুমতি নিয়েছেন এবং লাইসেন্স দেওয়ার সময় ক্লিন ফিডের শর্তের কথা বলা আছে। কেব্ল অপারেটররাও সেই শর্তের কথা মেনেই তারা লাইসেন্স নিয়েছেন এবং এমন নয় যে, তারা ছাড়া আর বাংলাদেশে কেউ কেব্ল অপারেটরের লাইসেন্স চায় না। আমাদের কাছে বহু কেব্ল অপারেটরের লাইসেন্সের দরখাস্ত জমা পড়েছে। আমরা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। শর্ত ভঙ্গ করলে বা বিভ্রান্তি ছড়ালে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বের ২৪টি টিভি চ্যানেল ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান চালাচ্ছে। এগুলো সম্প্রচারে কোনো বাধা নেই। এ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। সবার স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করুন। যদি ক্লিন ফিডমুক্ত অনুষ্ঠানগুলো না চালান, তবে আপনাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হবে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব মকবুল হোসেন, সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মোজাম্মেল বাবু, কাজী জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।