করোনার প্রণোদনা পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবস গ্রামের দিনমজুর রণজিৎ কুমার রায়, প্রভাস চন্দ্র রায়, কমল চন্দ্র রায়, নিখিল চন্দ্র বর্মন ও ফুলমনি রানীর পক্ষে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। কারাগারে থাকা এই পাঁচজনের পক্ষে গতকাল সোমবার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টে এ আবেদন করেন।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবস গ্রামের রণজিৎ, প্রভাস, কমল, সুবল চন্দ্র ও ফুলমনি রানীকে সরকারি সাহায্যের কথা বলে স্থানীয় স্বপন নামে এক ব্যক্তি ব্যাংকে হিসাব খুলতে প্ররোচনা দেয়। পরে সোনালী ব্যাংক নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) শাখায় তাদের নামে হিসাব খোলা হয়। এরপর কাগজপত্রে স্বাক্ষরের কথা বলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। কিছুদিন পর রণজিৎ কুমারের হিসাব নম্বরে ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, প্রভাস চন্দ্র রায়ের হিসাবে ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সুবল চন্দ্রের হিসাবে ৪০ লাখ ৭১ হাজার টাকা, কমল চন্দ্রের হিসাবে ৪২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ফুলমনি রানীর হিসাব নম্বরে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা হয়।
গত ১ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি ভুয়া অ্যাডভাইস দাখিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নামে মামলা হয়। মামলায় ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন হলেন রণজিৎ কুমার, প্রবাস চন্দ্র, কমল চন্দ্র, ফুলমনি রানী ও সুবল চন্দ্র। গত ২ জুলাই এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।