পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

সিলেটে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে দাদা-নাতির মৃত্যু

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে দাদা ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিজ চাউরা গ্রামের মাওলানা ফখর উদ্দিন (৬০) ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম (১০)। গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে দাদা-নাতির মৃত্যুর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তাদের অভিযোগ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া তার মেরামতের জন্য সোমবার সকালে দফায় দফায় বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেন স্থানীয়রা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। দুপুরের পর শিশু আরিফুল ইসলাম বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই তারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার করে। তখন তাকে বাঁচাতে দাদা ফখর উদ্দিন দৌড়ে এগিয়ে যান। সেখানে দাদা-নাতি দু’জনই বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ ও ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জী ও থানার ওসি তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে লোকজন অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, নিহত শিশু আরিফুল নিজ চাউরা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা বাবা রুহুল আমিন বিদেশে থাকেন। সোমবার আরিফুল বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের বাড়ির প্রায় ৪০ গজ দূরে বিদ্যুতের একটি খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে পড়ে। তখন নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে দাদাও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ওসি জানান, এ ব্যাপারে নিহতদের পরিবার থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।         

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের কানাইঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম আখতার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি  অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কোন কর্মীর দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।