সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নতুন নির্বাচন কমিশন

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। নির্বাচনকে আমরা নির্বাচন হিসেবেই দেখতে চাই। জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করে জনগণের ভোটে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে চাই। জনগণ যদি ভোট না দেয় আসব না পরিষ্কার কথা। দেশ গড়ার প্রস্তুতিও নেব, দল গড়ার প্রস্তুতিও নেব।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও সফর নিয়ে গতকাল সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এ সময় সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশের মানুষ বিএনপির সময়ে কী পেয়েছে আর আওয়ামী লীগের সময়ে কী পেয়েছে, সেটার তুলনা করতে হবে। জনগণ কাকে ভোট দেবে, আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? কারা, কেন, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে, কোন আশায় বিএনপিকে ভোট দেবে?’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি জানে নির্বাচনে জিততে পারবে না। জেতার সম্ভাবনা নেই বলেই বিএনপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে, মানুষের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নির্বাচনটাকে আমরা নির্বাচন হিসেবে দেখতে চাই। জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করে জনগণের ভোটে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে চাই। জনগণ যদি ভোট না দেয় আসব না পরিষ্কার কথা। দেশ গড়ার প্রস্তুতিও নেব, দল গড়ার প্রস্তুতিও নেব।’

জনগণ কোন ভরসায় বিএনপিকে ভোট দেবে : আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জানে নির্বাচনে জিততে পারবে না। একটা দল কীভাবে জিতবে? তাদের নেতৃত্ব কোথায়? একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আরেকজন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দেশান্তরী। বিএনপি তাদের নেতৃত্বে রেখেছে। জনগণ কোন ভরসায় ওই দলকে ভোট দেবে? তারা তো ইলেকশনও করতে পারবে না। এর ফল হচ্ছে, তারা যে নির্বাচনে জিতবে বা যেতে পারে এ বিশ্বাস তাদের নেই। তারা জানে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ তাদের (বিএনপিকে) ভোট দেবে কেন? জনগণ ভোট দিতে পারছে না এই প্রশ্ন যারা করে, আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? কাকে ভোট দেবে? কার কাছ থেকে মানুষ কী পেয়েছে? ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬, ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মানুষ কী পেয়েছে? সে তুলনা করে বিবেচনা করেন। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়। শুধু ক্ষমতা পাওয়ার জন্য ক্ষমতা নয়। ক্ষমতায় গেলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।’

করোনার মধ্যেও ভোটাররা নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচন যেন ঠিকভাবে না হয়, মানুষ যেন অংশ না নেয় সেজন্য অগ্নিসন্ত্রাস থেকে হেন কোনো কাজ নেই যা করা হয়নি। তারপরও নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের পর স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল বলেই আজ যত উন্নয়ন তা করা সম্ভব হয়েছে।’

এত সুবিধা পেয়েও গালি দিচ্ছে : শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা এসে উন্নয়ন কার্যক্রমে কিছুটা বাধা দিয়েছে। কিন্তু বসে থাকিনি। অনেক দেশে খাদ্যাভাব। কিন্তু আমাদের দেশে অভাব হয়নি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চলে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, টেলিভিশন দিয়েছি, মোবাইল ফোন দিয়েছি, বিদ্যুৎ দিয়েছি। এত সুবিধা পেয়েও গালিটা আমাকে বা আওয়ামী লীগকেই দিচ্ছে। বাঙালির চরিত্রেই আছে, ভালো করলে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকা। আমরা করলাম কেন?’

বিএনপির প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপিসহ যারা কথা বলে তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই দলের জন্ম কীভাবে? এই দল কি নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে হয়েছে বা এমন কোনো নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যারা জনগণের মৌলিক চাহিদা নিয়ে সংগ্রাম করেছে তা তো নয়। সুবিধাবাদী ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি করা সংগঠন।’

বিএনপির অত্যাচার থেকে কেউ বাদ যায়নি : বিএনপির শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসল। তাদের জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই, বোমা হামলা সারা দেশে গ্রেনেড হামলায় মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কেউ বাদ যায়নি বিএনপির অত্যাচার থেকে। পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন...।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিল। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জনগণ অন্তত এটুকু পেয়েছিল, সরকার মানেই জনগণের সেবক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ সরকার এসেছিল বলেই এত টেলিভিশন। হাতে হাতে মোবাইল ফোন। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়েও ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটাও তো হয়েছে।’

জিয়ার আমলে নির্বিচারে হত্যার তদন্ত হওয়া উচিত : সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ‘নির্বিচারে হত্যার’ ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে নিজের এ মনোভাব তুলে ধরেন তিনি। একজন ভুক্তভোগীর কথা তুলে ধরে একজন সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রেখেছিলেন, সেসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো কমিশন গঠনের উদ্যোগ সরকার নেবে কি না? উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৭ সালে তখন ক্যুর নামে, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন অফিসারসহ বহু লোক সে সময় মারা গেছে, হত্যা করা হয়েছে। এর মাঝে আরও কয়েকটি ক্যু হয়, সেটা নিয়ে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি বিমান ও সামরিক বাহিনীর অফিসারকে মারা হয়। তো আমরা দেখি, বিষয়টা নিয়ে যেহেতু দাবি উঠছে, আমাদের নিশ্চয়ই এটা নিয়ে একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এজন্য ভালো জনমতও সৃষ্টি হওয়া উচিত।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বিপথগামী একদল সেনাসদস্য। এরপর ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন। তার পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও নেন। জিয়া ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে এরকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার অবৈধ বলে রায় এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। জিয়ার আমলের ওইসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে স্বজনহারাদের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিশন নিয়ে প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সময়ে, পঁচাত্তরের পর এই বাংলাদেশে বারবার ক্যু হয়েছে এবং এই ক্যুর নামে শুধু এয়ারফোর্সের অফিসার বা সৈনিক-কর্মচারীই নন, সেনাবাহিনীরও বহুজনকে হত্যা করা হয়েছে এবং আপনারা যদি বিভিন্ন জেলখানায় খোঁজ করেন, কোন জেলে কতজনকে এভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাহলে দেখবেন এরকম হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের ওই সময়ে হত্যা করা হয়েছে, গুম করে ফেলায় তাদের পরিবারের সদস্যরা লাশও পায়নি। তারা যে এভাবে “হারিয়ে গেল” তারও কোনো জবাবদিহি হয়নি। এটা একটা আশার কথা যে, আজকে এত বছর পর সবার এই চেতনাটা এসেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন এতকাল সবাই কেন এটা ধরে ছিল?’

জিয়াউর রহমান তার ক্ষমতাকে ‘নিষ্কণ্টক’ করার জন্য এসব ঘটিয়েছিলেন মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এটা তো জানা কথা এবং একের পর এক শুধু সেনাবাহিনীতে তো নয়, আমাদের আওয়ামী লীগসহ বহু নেতাকর্মীকেও তো হত্যা করেছে, গুম করে দিয়েছে। মনে হয় যেন তাকে এমন একটা ফেরেশতার মতো বানিয়ে দেওয়া হলো, শেষকালে স্বাধীনতার ঘোষকও বানিয়ে ফেলা হলো। সেটা নিয়ে তেমন কেন কেউ কথা বলেনি, এটা আমার বড় প্রশ্ন।’

বিএনপিও যে ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার করেনি, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিউটিনির বিচার করে ১১ জন সামরিক অফিসারকে যে ফাঁসি দিল, সেটাও কিন্তু খুব অন্যায়ভাবে; কারণ এখানে অনেকে জানতই না, কিন্তু রাতারাতি একটা ক্যামেরা ট্রায়াল করেই তাদের ফাঁসি দিয়ে দিল। আমরা কিন্তু তখন তার প্রতিবাদ করেছিলাম যে, না এটা তদন্ত হওয়া দরকার। এই মিউটিনিটা কেন হলো, কারা করল, কারা জড়িত, তারপর কাদের ফাঁসি দিচ্ছি তা কিন্তু করেনি।’

বিমান প্রসঙ্গ : ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ড্রিমলাইনার নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার যে সমালোচনা বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল করছে, তার জবাবও এক প্রশ্নে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য যে, করোনার কারণে অনেক জায়গায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানগুলোকে প্রতিনিয়ত বসে থাকতে হয় আর মেইনটেন্যান্সেরও একটা খরচা আছে। পড়ে থাকলেও কিন্তু ইঞ্জিন চালু রাখা, এটাকে ফ্লাই করানো এর পেছনে কিন্তু একটা খরচ হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেহেতু যাবই, তখন অন্য এয়ারলাইনসকে টাকা দিয়ে লাভ কী? নিজেদেরটাই নিয়ে যাই। সেটার সঙ্গে সঙ্গে এটা বোয়িং, অ্যামেরিকান বিমান, জেএফকেতে নামবে সেটাও আমাদের জন্য একটা আনন্দের বিষয়। এর মধ্যে ফুয়েল নেওয়ার জন্য আমরা ফিনল্যান্ডে অবতরণ করি।’

ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর যে সøট ছিল, সেটা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নতুন বিমানগুলো কিনলাম, সেটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটা প্রচেষ্টা ছিল ওই সøটটাকে ধরে রাখা। এয়ারক্রাফটগুলো চলতে গেলে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। সেটাকে সামনে রেখে আমরা নতুন আইনও করেছি, তাছাড়া আমাদের আলোচনাও চলছে।’

টরন্টো, নিউ ইয়র্কসহ আরও কয়েকটি রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিমানটা বাংলাদেশ থেকে, ঢাকা থেকে সরাসরি ১৪ ঘণ্টায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছতে পারে। এর পরিচালনক্ষমতা প্রায় ১৭ ঘণ্টার মতো। আমরা যখন নিয়ে আসি, সিয়াটল থেকে একটানে চলে আসে। সেজন্য আমাদের একটা চেষ্টা আছে, বিমানটা এভাবে চালু করব।’

সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন অনেকে অনেক কথা বলে, বলতে পারে, যেটা বলবে, সেটা তার মুখেই থাকবে। যখন যেটা বলে, পরবর্তীকালে জিজ্ঞেস করতে পারেন তাদের, আমাদের জিজ্ঞেস করে তো লাভ নেই। আমার চেষ্টা আমার দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা। দেশের মানুষের কল্যাণ করা, দেশটাকে উন্নত করা এবং একটা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় যেন আমার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে, সেই জায়গটায় নিয়ে আসা। সেটুকু করে যাচ্ছি।’

হাতিয়ে নেওয়া ই-কমার্সের টাকা ফেরত দেওয়া হবে : ই-কমার্সের নামে জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া গেলে সেটা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যেটুকু করার সেটুকু করেছি। তবে এরকম হায় হায় কোম্পানি যখন সৃষ্টি হয়... সেটা যদি শুরুতেই ধরিয়ে দিতে পারতেন তবে কোম্পানিগুলো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারত না। টাকাগুলো যারা নিয়েছে তারা সেগুলো কোথায় পাচার করেছে তদন্ত হচ্ছে। কোকো টাকা পাচার করেছিল। আমরা কিন্তু কিছুটা হলেও ফেরত আনতে পেরেছি। অর্থাৎ খালেদা জিয়ার ছেলের টাকা ফেরত আনতে পেরেছি। এরকম বহু আছে। চেষ্টা করে যাচ্ছি। করোনা এসে কিছুটা সমস্যা করেছে। না হলে আরও অনেকের টাকাই আনতে পারতাম।’ সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘এই যে মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ টাকা বানানোর যে প্রতারণা করেছে, এটার উপযুক্ত শাস্তি অবশ্যই হবে। আমরা বসে নেই। এদের ধরা হয়েছে। একবার যখন ধরা হয়েছে তখন টাকা কোথায় রাখল সেটাও বের করা হবে।’

টিউলিপের গাড়িতে হামলা ও জাহাঙ্গীরের প্রসঙ্গ : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অডিও রেকর্ড নিয়ে দেশজুড়ে যে তোলপাড় হচ্ছে এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কতভাবেই কত কিছু হয়। তবে তার বক্তব্যের ব্যাপারে দল থেকে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পেলে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকীর গাড়িতে হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সে দেশের সরকার দেখবে। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করব না। এটা নিশ্চয়ই একটা গর্হিত কাজ।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণায় অনীহা : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা হয় না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গবেষণায় বিশ্বাসী। হাতেগোনা কয়েকজন গবেষণা করে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমার উদ্দেশ্য মেডিকেল সায়েন্সের ওপর গবেষণা করা। অথচ এ খাতে কোনো গবেষণাই হয় না। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কেন যেন গবেষণায় অনীহা কাজ করে। আমি বুঝি না এটা কেন। আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আরেকটা চাকরি করেন। সময়টা গবেষণার কাজে লাগান না তারা।’

রোহিঙ্গারা পরিবেশ নষ্ট করছে : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গারা পুরো পরিবেশ নষ্ট করছে। উখিয়া ছিল ঘন জঙ্গল। এখন ন্যাড়া মাথা হয়ে গেছে, কোনো জঙ্গল নেই। রোহিঙ্গারা নারী ও শিশু পাচার, মাদক পাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হচ্ছে। প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাদের থামানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, রিফিউজি থাকলে কিছু লোকের লাভই হয়। অনেক প্রস্তাব আসে রোহিঙ্গাদের জন্য, এখানে অনেক কিছু করে দিতে চায়। আমি সোজা বলে দিই যান মিয়ানমারে, ওখানে ঘর করেন, স্কুল করেন, এখানে করা লাগবে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়, (তাদের কাছে) সবকিছুতেই যেন একটা ব্যবসা।’

ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বলেছি, আপনারা এখন কেন ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলেছি, নানা সমস্যা হচ্ছে। এদের না ফেরাতে পারলে সমস্যা আরও হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আলোচনায় যোগদান শেষে গত শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি হয়ে দেশে ফেরেন।