প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের তাগিদ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইউনুচ শরীফের বিরুদ্ধে টেন্ডার টেম্পারিং ও সরকারি ১৪ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে দুদক।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পবিপ্রবি কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অবহিতকরণের তাগিদ দেওয়া হয়। গত সোমবার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. কামরুল ইসলাম দুদকের ওই তাগিদপত্র  পেয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করে জানান, ভিসি স্যার ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ক্যাম্পাসে ফিরলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়, পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইউনুচ শরীফ অবৈধ ভাবে লাভবান হতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের টেন্ডার টেম্পারিং করে সর্ব নিম্ন দরদাতা অনিক ট্রেডিং করপোরেশনের টেন্ডার বাতিল করে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৭ টাকা উচ্চ দরদাতা মেসার্স স্টারলাইট সার্ভিসেসকে ৯টি কাজের ৩ কোটি ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭৩ টাকার কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে দুদক ২০১৯ সালে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকালে আসামি মো. ইউনুচ শরীফ আত্মসাৎ করা ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অপরাধের প্রমাণ দেন। দুদকের তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইউনুচ শরীফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্টার লাইট সার্ভিসেস লি:-কে কালো তালিকাভুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, পটুয়াখালীর ঠিকাদার মেসার্স মতিন গাজীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক, পটুয়াখালীর দায়ের করা মামলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইউনুচ শরীফ গ্রেপ্তার হন এবং ২০দিন হাজতে থাকার পর আত্মসাৎকৃত অর্থ জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান।