সুবিধাভোগীদের খপ্পরে ৫১ গুরুত্বপূর্ণ আইন

দফায় দফায় ডেটলাইন বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন সভায় সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও সামরিক শাসনামলে প্রণীত অর্ডিন্যান্স আইনে পরিণত করার কাজ শেষ হচ্ছে না। কেন শেষ হচ্ছে না জানতে চাইলে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কোটারি স্বার্থে কিছু অর্ডিন্যান্স আইনে পরিণত করার কাজ শেষ হচ্ছে না।’

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে, দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু আইন সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বাধার মুখে আটকে আছে। মন্ত্রী পর্যায়ে এসব অর্ডিন্যান্স আইনে পরিণত করার কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এসব অর্ডিন্যান্সের মধ্যে মেডিকেল প্র্যাকটিস প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্স, ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স, দ্য চিফ ইলেকশন কমিশনার কমিশনারস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস অর্ডিন্যান্স ল্যান্ড রিফার্ম অর্ডিন্যান্স, বিভিন্ন মেট্রোপলিটান পুলিশ অর্ডিন্যান্স অন্যতম।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আছেন, সচিব আছেন। তারা যদি কোনো কাজে ব্যর্থ হন সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।’

সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই চলছে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিলেও সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে রোগীদের সঙ্গে। অকার্যকর আইনের জন্য এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের তদারকির অভাবে ফ্রি স্টাইলে পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে বিপদে পড়া রোগীদের পুঁজি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও নতুন নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় সেবাধর্মী এ প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এরশাদের সময় ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। ওই সময় কিছুদিন এ অর্ডিন্যান্স কার্যকর থাকলেও ধীরে ধীরে তা অচল হয়ে যায়। বিএনপি ও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাসনামলে একাধিকবার এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অংশীজনদের বিশেষ করে চিকিৎসকদের বিরোধিতার কারণে আইনটি শেষ পর্যন্ত প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরাও। ১৯৮২ সালের অর্ডিন্যান্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভাতা ছিল ২০০ টাকা। অর্ডিন্যান্সে মেজর অপারেশনের চার্জ ছিল ৬০০ টাকা। মাইনর অপারেশনের চার্জ ছিল ২০০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ ছিল ৪০০ টাকা। রক্তে হিমোগ্লোবিন পরিমাপের চার্জ ছিল ৮ টাকা। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, এখন ২০০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো যাবে না। কিন্তু কত টাকায় দেখানো যাবে তার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এসব ফি নির্ধারণ করে অর্ডিন্যান্সটাকে আইনে পরিণত করার জন্য দফায় দফায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন সরকারপন্থি চিকিৎসক সংগঠনগুলোর বিরোধিতায় তা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।

ওষুধ সেক্টর তদারকির জন্য সামরিক শাসনামলে ‘দ্য ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ প্রণয়ন করা হলেও তা যুগোপযোগী নয়। আপডেট করার জন্য ওষুধ আইনের খসড়া করা হলেও তা চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রত্যাশা প্রধান অন্তরায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৭’ জিয়াউর রহমানের সামরিক জামানায় প্রণীত অর্ডিন্যান্স। এ দিয়েই এতদিন পাবলিক সার্ভিস কমিশন চলেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আমলারা নিয়োগ পেয়েছেন, চাকরি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার সমাধান হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই। কিন্তু আদালতের নির্দেশনায় অর্ডিন্যান্সটি আইনে পরিণত করতে গিয়ে শুধু ইংরেজি থেকে বাংলা না করে আইনটির খোলনলচে বদলে দিতে চেয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কমিশন সদস্যদের স্ট্যাটাস বদলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কমিশন সদস্যরা বর্তমানে সচিব পদমর্যাদা ভোগ করছেন আর চেয়ারম্যান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের। তাদের মর্যাদা বিচারপতিদের পদমর্যাদার সমান করার প্রস্তাব নিয়ে অর্ডিন্যান্সের খসড়া আটকে আছে দীর্ঘদিন। এ নিয়ে প্রশাসনে দুই ধরনের মত রয়েছে। একপক্ষের কথা হচ্ছে পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এর সদস্যদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়েরই হওয়া উচিত। কিন্তু অন্যপক্ষের মন্তব্য হচ্ছে কমিশন সরকার বর্তমান সচিবদের দিয়েই গঠন করতে পারে। শুধু চেয়ারম্যানকে চুক্তিতে নিয়ে অন্য সদস্যদের সাধারণ সচিবদের মতোই নিয়োগ বা বদলি করা যেতে পারে বা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিএসসিতে বদলি করা যেতে পারে। এতে সাংবিধানিক এ সংস্থার কাজে গতি থাকবে। চাকরি থেকে অবসরের পর কমিশন সদস্যদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরের পর কর্মকর্তাদের কাজের স্পৃহা আগের মতো থাকে না। এ বিষয়টি করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে কমিশনের কাজে প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বর্তমান ও সাবেক আমলা, শিক্ষক বা অন্যান্য পেশাজীবীর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা যেতে পারে।

দেশে ব্যক্তিগতভাবে কেউ হাটবাজার স্থাপন করতে পারে না। এগুলো সরকার স্থাপন করবে। কেউ হাটবাজার স্থাপন করলে তা সরকার হুকুম দখল করতে পারে। হাটবাজারের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ের। সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক রাজস্ব আদায় করেন। এ রাজস্ব আদায় নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কিছু দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় পরিচালিত হাটবাজার ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে চায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা পৌসভার প্রতিনিধিরা। ‘সরকারি হাটবাজার সমূহের ব্যবস্থাপনা, ইজারা পদ্ধতি এবং উহা হইতে প্রাপ্ত আয় বণ্টন সম্পর্কিত নীতিমালা’ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ‘হাটবাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা’ খসড়া মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বাজারের চান্দিনা ভিটির টেন্ডার হওয়ার কথা প্রতি চৈত্র মাসে। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও তা সরকারের টার্গেট পূরণ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে আগের দর বহাল রাখার জন্য একটা সংকট সৃষ্টি করে আদালতের দ্বারস্থ হয় সংশ্লিষ্টরা। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেয়রদের সংশ্লিষ্টতা থাকে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা এসিল্যান্ড থাকার সময় এ প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাদের বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগে।

নির্বাচন কমিশন চলছে ‘দ্য চিফ ইলেকশন কমিশনার কমিশনারস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস অর্ডিন্যান্স, ১৯৮১’ অনুযায়ী। অর্ডিন্যান্স বদলে আইন করার সুযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এমন এক আইনের খসড়া করেছে যেখানে কমিশনারদের সুযোগের ছড়াছড়ির প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চরম ব্যর্থ হলেও সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা একধাপ এগিয়ে রয়েছেন। খসড়া আইনে অবসর ভাতা চাওয়া হয়েছে আমৃত্যু। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ভারতের কমিশনারদের মতো চিকিৎসা সুবিধা চাওয়া হয়েছে। অথচ কমিশনার প্রত্যেকেই অন্য চাকরির মেয়াদ শেষ করে সাময়িক সময়ের জন্য নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন। কমিশনের মেয়াদ শেষ হলে তারা তাদের মূল চাকরিস্থল থেকে অবসরভাতা বা চিকিৎসা সুবিধা পান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের বেতনভাতাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা আয়করমুক্ত রাখার সুপারিশ করে নির্বাচন কমিশনারদের প্রাধিকার অ্যাক্টের খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়া অনুযায়ী, সাংবিধানিক পদে তিন বছর বহাল থাকলে আমৃত্যু মাসিক অবসর ভাতাও পেতে চান নির্বাচন কমিশনাররা। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সময় অনুযায়ী ভাতার হার হবে ৬০ শতাংশ থেকে শতভাগ। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী সিইসি প্রতিমন্ত্রীর এবং কমিশনাররা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের মর্যাদা পেলেও তারা এ মর্যাদা আওর বাড়াতে চান।

১৯৮৪ সালের ল্যান্ড রিফর্ম অর্ডিন্যান্স আইনে পরিণত করার জন্য দফায় দফায় খসড়া করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভূমির অংশীজন এত বেশি যে তারা একমত হতে পারেন না।

‘ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’, ‘খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫’ আটকে আছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘দি ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ ‘মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ ‘মংলা পোর্ট অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ ঝুলে আছে। এসব অর্ডিন্যান্সের মতো ঝুলছে ‘ভূমি খতিয়ান অধ্যাদেশ, ১৯৮৫’ ‘জাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’।

অনেকদিন ঝুলে থাকার পর গত ২৩ আগস্ট মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ভ্রমণভাতা অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্মানী ও সুবিধাদি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী দুটি সামরিক সরকারের শাসনামল অবৈধ হয়ে যায়। তাই ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর সময়ের মধ্যে জারি করা সব অধ্যাদেশও অবৈধ। এ অধ্যাদেশগুলোকে আইনি ভিত্তি দিতে ২০১৩ সালে ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত অধ্যাদেশ ‘কার্যকরণ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১৩’ এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ ‘কার্যকরণ (বিশেষ বিধান) আইন-২০১৩’ পাস হয়। সে অনুযায়ী যেসব অধ্যাদেশের প্রয়োজন রয়েছে সেগুলোকে যুগোপযোগী করে বাংলায় অনুবাদসহ আইনের খসড়া হিসেবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে বিল আকারে পাস হয়ে আইনে পরিণত হচ্ছে। উচ্চ আদালত সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা করার পরও কার্যকারিতা থাকায় কিছু আইন ও বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এসব আইন ও বিধি সংশোধন করে সময়োপযোগী করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও মন্ত্রণালয়গুলো এর নিষ্পত্তি করতে পারছে না।

গত বছর ২৭ জুলাই সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলোকে আইনে রূপান্তরে তিন মাস সময় বেঁধে দেয় মন্ত্রিসভা। ওই সময় সব মিলিয়ে ঝুলে থাকা অর্ডিন্যান্স ছিল ৬৪টি। গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সচিব সভায় জানানো হয় ২২ মন্ত্রণালয়ে ঝুলে থাকা অর্ডিন্যান্স হচ্ছে ৫১টি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো নিষ্পত্তি করার ডেডলাইন দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী এসব অর্ডিন্যান্স দ্রুত আইনে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা সত্ত্বেও এসব অর্ডিন্যান্স আইনে পরিণত করার কাজ ঢিমেতালে চলছে।