চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ উপনির্বাচনে এক কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১ পদপ্রার্থী। এর মধ্যে ২০ জন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। যেখানে রয়েছে কিশোর গ্যাং লিডার থেকে শুরু করে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপের শীর্ষ নেতা। যে কারণে ভোটের দিন কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন অনেক ভোটার।
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১৮ মার্চ সাতবারের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। এ উপনির্বাচনে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৫টি কেন্দ্রের ৮৬টি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে এ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগের দিন সব কেন্দ্রে ইভিএমসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, চকবাজার ওয়ার্ডে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪২ জন।
জানা যায়, চকবাজার ওয়ার্ড উপনির্বাচনে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন প্রয়াত কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর স্ত্রী মেহেরুন্নেসা খানম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শাহেদুল আজম শাকিল, মো. সেলিম রহমান, আবুল কালাম চৌধুরী, কাজল প্রিয় বড়ুয়া, নোমান চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ, কাজী মোহাম্মদ ইমরান, যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু, মো. আবদুর রউফ, মো. আলী আকবর হোসেন চৌধুরী, মো. নূরুল হুদা, মমতাজ খান, আজিজুর রহমান, মো. আলাউদ্দীন, মোহাম্মদ জাবেদ, কায়সার আহমেদ, কাউসার আহমেদ, শওকত ওসমান, মো. রুবেল সিদ্দিকী ও বিএনপির একক প্রার্থী একেএম সালাউদ্দিন কায়সার লাভু।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকা পোস্টারে ছেয়ে গেছে। চলছে মাইকিং এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা। কাপাসগোলা এলাকায় পাশাপাশি বিভিন্ন প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস। সেখানে মাহফুজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তিনি আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, এ নির্বাচনে আদৌ ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কি না সন্দেহ। কেননা এবার দেখি স্থানীয় অনেক সন্ত্রাসীও প্রার্থী হয়েছে। এমনকি জেলে থেকেও নির্বাচন করছে। নির্বাচনের দিন প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গণ্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রশাসনকে বিষয়টি গভীরভাবে মনোযোগ দিতে হবে। নয়তো বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনে আশা করি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না। এরপরও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এলাকায় এলাকায় নজরদারি রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে।