স্মৃতি ছাড়া কিছুই নেই: আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছোট ভাই

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করলেন ছোট ভাই আবরার ফায়াজ।

এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবরের কথা স্মরণ করেন তিনি। যেদিন আগের রাতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নিহত ভাইয়ের খবর পান তারা।

ফায়াজ লেখেন, “২০১৯ সালের আজ অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ভাইয়া ঢাকাতে যায়।

আম্মু নিজে ভাইয়াকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছিল। এরপর মাত্র ১৩-১৪ ঘণ্টার মধ্যে ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।

২০ ঘণ্টা পরই বাসায় আসে মৃত্যুর সংবাদ।

সেদিন সকালে যাওয়ার আগে ৯টার দিকে আম্মু আমাকে ডেকেছিল। ভাইয়া চলে যাচ্ছে, ওঠ। কিন্তু ভাইয়া বলে, ‘না থাক, অনেক রাতে ঘুমাইছে ঘুমাতে দেও। আমি চলে গেলাম। তুই বেশি দিন থাকিস না তাড়াতাড়ি ঢাকা চলে আসিস।’

মাত্র ৪-৫ হাত দূরে ছিল সেদিন। আর আজ আমাদের মধ্যে দূরত্ব অসীম। ঢাকা ফেরাও হয়নি।

যাওয়ার আগের রাতে আম্মুকে ভাইয়া  বলেছিল, ‘আম্মু অনেক ছারপোকা কামড়ায়। পিঠে একটু হাত বুলিয়ে দেও তো। কোনো দাগ হয়ে গেছে নাকি? আচ্ছা তোমার কাছে কি এমন কোনো ওষুধ আছে যা লাগালে আর কামড়াবে না আমাকে?’

আজ ২ বছর আমাদের আর দেখা হয় না। আর কথা হয় না। শুধু এই স্মৃতিগুলো ব্যতীত কিছুই নেই আর।”

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোররাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তখন অভিযোগ ওঠে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে।

বাংলাদেশ-ভারতের বৈষম্যমূলক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওই সময় ফেইসবুকে লিখেছিলেন আবরার ফাহাদ। ওই স্ট্যাটাসের জের ধরেই তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট তৈরি করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৫ জন আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, এই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মামলাটির বিচার শেষ হবে।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়।