দেশের মানুষ পুলিশকে সম্মান করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, করোনা মহামারীর সময় বাংলাদেশ পুলিশ ফ্রন্ট ফাইটার হিসেবে কাজ করছে। সন্তান যখন তার মায়ের দাফন না করে পালিয়েছে, সে সময় বাংলাদেশ পুলিশ দাফন সম্পন্ন করেছে। ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। বিগত সময়ের পুলিশ আর এখনকার পুলিশ এক নয়। দেশের মানুষ এখন পুলিশকে সম্মান করে। গত মঙ্গলবার রাতে মিরপুর পুলিশ কনভেনশন হলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করছে। শুধু জঙ্গিবাদ নয়, যে কোনো চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পুলিশ। দেশ-বিদেশে সর্বত্রই আমাদের দেশের পুলিশের প্রশংসা হচ্ছে।’

এর আগে আগামী এক বছরের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. বেনজীর আহমেদ। অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এসবি) মো. মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অভিষেক অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, আশা করি আগামী এক বছর এই কমিটি তাদের ওপর দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করবে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করবে। আমরা গত দুই বছর ধরে মহামারীর মধ্যে দিয়ে সময় পার করছি। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ১২৬ জন সদস্য করোনাকালীন দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২৬ হাজারে বেশি পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২৫ হাজারের বেশি সদস্য সুস্থ হয়ে আবারও দেশপ্রেমে মানুষের  সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। পুলিশকে আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় আত্মমর্যাদাশীল পুলিশ বাহিনী গড়তে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার  বলেন, দেশের জনগণ এখন পুলিশের মধ্যে আস্থা খুঁজে পেয়েছে। পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থাকছে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রীর ভিশন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতিমধ্যে পুলিশ তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।’

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ডেল্টা প্ল্যান পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দেশেও অপরাধের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে, অপরাধীরাও তাদের অপরাধের কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে। তাদের প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশকেও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। শুধু করোনাকালীন নয়, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ পুলিশ দেশের মানুষের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক উপ-পুলিশ কমিশনার (গুলশান বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান।

গত ২৬ জুন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।