গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক শিশু ও মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মাজেদুল ইসলাম সেলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের পরিমাণ জানতে দুদক থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।
দুদকের উপপরিচালক এসএম রাশেদুর রেজা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জের দেওপাড়া এলাকার মাজেদুল ইসলাম সেলিমের (বর্তমান ঠিকানা ঢাকার ৬১ সিদ্ধেশ্বরী লেন, ফ্ল্যাট নং-২) বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য সেলিম, তার স্ত্রী রাহিমা বেগম এবং ভাই কামরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম ও মামুনুল ইসলামসহ পরিবারের সাতজনের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১০টি দলিলের জাবেদা কপি/সার্টিফাইড কপি সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিতে জেলা রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মাজেদুল ইসলাম সেলিম গাজীপুরের কালীগঞ্জের দেওপাড়া গ্রামের প্রয়াত মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেহের আফরোজ চুমকির এপিএসের দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজেদুল ইসলাম সেলিম গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদক থেকে এখনো আমাকে কোনো কিছু জানায়নি। তবে আমি অন্য একটি মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খোঁজ নিচ্ছে দুদক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো অবৈধ অর্থ-জমি নেই। এলাকায় আমার রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক প্রতিপক্ষ থাকতে পারে। তাদের কেউ শত্রুতাবশত বেনামে আমার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে। আমি নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, শত শত বিঘা জমির মালিক। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দুদক সম্পদের হিসাব চেয়ে থাকতে পারে। আমার পৈতৃক বাড়ি কালীগঞ্জে, এখানে আমাদের জমি রয়েছে। কোনো অবৈধ অর্থ-জমি নেই। আমাকে বিতর্কিত করতে পারলেই আপাকে (মেহের আফরোজ চুমকি) বিতর্কিত করা যেতে পারে। আমি চাই এটা আইনগতভাবেই সমাধান হোক।’
দুদকের চিঠির ব্যাপারে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার শাহিন রেজা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুদকের চিঠি পাওয়ার পর কালীগঞ্জ ও গাজীপুরে তল্লাশি চালিয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উল্লিখিতদের (সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যরা) নামে ২০টির মতো দলিল পাওয়া গেছে। সব কপি এ সপ্তাহের প্রথম দিকে দুদক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’