খুলনায় কোকেন মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় কোকেন উদ্ধারের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আরও পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় সকল আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দায়রা জজ আদালতের পিপি এনামুল হক।

রায়ে আসামি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া সো‌হেল রানা‌কে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জ‌রিমানা, ছ‌গিরকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ জ‌রিমানা ও অনাদা‌য়ে ২ বছ‌রের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বিকাশ চন্দ্র মন্ডল, এরশাদ ও ফজলুর রহমান ফ‌কিরকে ১০ বছ‌রের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা অনাদা‌য়ে আরও এক বছ‌রের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানান, ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট রাত পৌনে ১০ টার দিকে র‌্যাব-৬ খুলনার একটি দল নগরীর হাদিস পার্কের সামনে অবস্থান নেয়।

এ সময় ওই দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ময়লাপোতা মোড়ের পাশে একটি চক্র মাদক কেনাবেচা করছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সেখানে পৌঁছালে কয়েকজন লোক পালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

পালানোর কারণ জানতে চাইলে সোহেল জানায়, তার কাছে কোকেন আছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা সেখান থেকে ২৩০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করে।

সোহেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গগনবাবু রোডের একটি বাড়ি থেকে কোকেন বিক্রির মূল হোতা আরিফুর রহমান ছগিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছগিরের দেওয়া তথ্য মোতাবেক দাকোপ উপজেলায় রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও ফজলুর রহমান ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী টুটপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এস এম এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রূপসা উপজেলার রাজাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনটি কোকেনের প্যাকেট বের করেন তিনি।

যার মধ্যে দুই কেজি ২০ গ্রাম কোকেন পাওয়া যায়। সোয়া দুই কেজি কোকেনের মূল্য ২২ কেটি ৫০ লাখ টাকা।

র‌্যাব কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে রূপসা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।