সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের অনুমতি পেল আলিফ গ্রুপ

উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পরিত্যক্ত কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস লিমিটেডকে অধিগ্রহণের অনুমতি পেল আলিফ গ্রুপ। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের ব্যাংকঋণের দায় নেওয়ার পাশাপাশি ঋণ নিয়মিতকরণ ও উৎপাদন শুরুর নিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে আলিফ গ্রুপের এই অধিগ্রহণে সম্মতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল আলিফ গ্রুপ ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অধিগ্রহণ বিষয়ক সম্মতির চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা গোপনে শেয়ার বিক্রি করে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কোম্পানিটির। গত পাঁচ বছর বন্ধ থাকা ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটিকেই এখন অধিগ্রহণ করবে আলিফ গ্রুপ, যাদের অধীনে পুঁজিবাজারে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও আলিফ ম্যানুফাকচারিং কোম্পানি নামে দুটি কোম্পানি রয়েছে। এখন সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে নতুন শেয়ার ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংস্থানে আলিফ গ্রুপকে শর্ত দিয়েছে এসইসি, যা আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। ওই অর্থ শুধু সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের ব্যাংকঋণ নিয়মিতকরণ ও উৎপাদন কার্যক্রম নিশ্চিতে ব্যবহার করা যাবে।

সাত শর্তে অধিগ্রহণে সম্মতি দিয়ে এসইসি জানিয়েছে, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের উৎপাদন শুরু করতে সব ধরনের উদ্যোগ ও দায় নেবে আলিফ গ্রুপ। কোম্পানিটিকে উৎপাদনে ফেরাতে আলিফ গ্রুপ অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। এজন্য গ্যাসলাইনসহ অন্য সব ইউটিলিটিজের সমস্যা কাটিয়ে তুলবে। নতুন শেয়ার ইস্যু ও বন্ডের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধিতে আসন্ন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রযোজ্য সকল সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের বিধিবিধান পরিপালন করে আলিফ গ্রুপ তাদের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে হবে। আলিফ গ্রুপকে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ব্যাংকের দায় মেটাতে হবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ গ্রুপের কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংকে সিকিউরিটিজ আইন মেনে ঝুলে থাকা সব এজিএম সম্পন্ন এবং আর্থিক প্রতিবেদনে দাখিল নিয়মিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের পর্ষদের অন্তর্কলহ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুখসানা মোর্শেদ, পরিচালক শারমিন আক্তার লাভলি ও বাংলাদেশ সুজ ইন্ডাস্ট্রিজ কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় পরবর্তীকালে রুখসানা মোর্শেদকে ৮ কোটি টাকা, পরিচালক শারমিন আক্তার লাভলিকে ৪ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সুজ ইন্ডাস্ট্রিজকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করে এসইসি। ২০১৬-১৭ হিসাব বছর থেকে লভ্যাংশ ও আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে কোম্পানিটির। ২৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার এখন ৭ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।  

গত ৮ সেপ্টেম্বর এসইসিতে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠায় আলিফ গ্রুপ। এর আগে চট্টগ্রামে অবস্থিত কোম্পানিটি পরিদর্শন করে তারা। অধিগ্রহণ প্রস্তাবে আলিফ গ্রুপ জানিয়েছে, ৩৭ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা অনুরূপ শিল্পে সফলভাবে ব্যবসা করছি। যদিও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসকে দাঁড় করানো খুব কঠিন। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দক্ষতা ও এই শিল্পজ্ঞান দিয়ে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারব। তবে গত পাঁচ বছর ধরে কোম্পানিটি বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটির কিছু বড় যন্ত্রপাতি মেরামতের প্রয়োজন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করতে চাই।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের মার্চে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলসের পর্ষদ পুনর্গঠন করে এসইসি। কোম্পানিটিতে এসইসির মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন, অতিরিক্ত সচিব নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ, ড. মোহাম্মদ শরিয়ত উল্লাহ, ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, ড. রেজওয়ানুল হক খান, ড. এবিএম আশরাফুজ্জামান, ড. তৌফিক ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ এহসান। অতিরিক্ত সচিব নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ কোম্পানি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর থেকে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। আর ২০১৫ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে টানা ৫ বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।