আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে করণীয় নির্ধারণে পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে শেষ হলো বিএনপির সিরিজ বৈঠক। পেশাজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকে পেশাজীবীরা নেতারা বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের দাবিতে আমাদের এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। বর্তমানে দেশে সমস্যা অনেক, তবে সমাধান একটাই। আর তা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন।’ গতকাল শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছে বৈঠক সূত্র।
সূত্র জানায়, ‘বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠকে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের অধিকাংশই সরকারের পতনে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের পতন না হলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকারসহ সাংবিধানিক অধিকার ফেরত পাবে না। আন্দোলন-সংগ্রামে যাওয়ার আগে দলের পুনর্গঠনকাজ শেষ করতে হবে। রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে আনতে হবে।’
গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি নির্বাহী কমিটির নেতাদের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সিরিজ বৈঠক করেন বিএনপির নেতৃত্ব। সিরিজ বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে অধিকাংশ নেতাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামে যাওয়ার পরামর্শ দেন। গত শুক্র ও শনিবার পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে শেষ হয় সিরিজ বৈঠক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে শেষ হলো আমাদের সিরিজ বৈঠক। বৈঠকে যেসব পরামর্শ এসেছে তা দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা-পর্যালোচনা হবে। এরপর চূড়ান্ত হবে আমাদের কর্মসূচি।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সভার শুরুতে অংশ নেওয়া পেশাজীবী নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘এর আগে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ মতামত দিয়েছেন। গত শুক্রবার পেশাজীবীরা মতামত দিয়েছেন। আজ আপনাদের কাছে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট মতামত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
যেসব পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়েছেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ইউট্যাব, বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউ, জিয়া পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জি-৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, জিয়া পরিষদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইকবাল মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সাহলে প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তথ্য গবেষণা সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাহাবুবউল্লাহ, শওকত মাহমুদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী, কামাল উদ্দিন সবুজ, আবদাল আহমাদ, ইউসুফ হায়দার, আব্দুল লতিফ মাসুম, ওবায়দুল হক, ছবিরুল হওলাদার, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, কাদের গনি চৌধুরী, খোরশেদ আলম, বাছির জামাল, মাহমুদা হাবিবা, মাহমুদ হাসান, ডা. ফাইজুল ইসলাম ফারুকী, গাজি আব্দুল হক, রাশেদুল হক, দিদারুল আলম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান, এস এম ফজলুল হক, শামসুল আলম, এম জে আবেদীন, অধ্যাপক তোফাজ্জেল হোসেন, অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমন, মাসুদা কামাল, মো. সুলাইমান, ইদ্রিস আলী, শফিকুর আলম দোলনসহ ৮২ পেশাজীবী নেতা।