দিনমজুর মনির হোসেন (৩০)। জীবিকার সন্ধানে দেড় মাস আগে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে আসেন সাভারের আমিনবাজারে। বড়দেশী পূর্বপাড়া মহল্লার আব্দুল মালেকের বাড়ি ভাড়া নেন। স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা, দুই বোন ও তাদের স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের বেশিরভাগই কয়লা শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্ত্রীর সঙ্গে কয়লার কাজ করে মনির দিনে ৬০০ টাকার মতো আয় করতেন। গত শনিবার সকালে তাদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। দুই বোন, তাদের ছেলে-মেয়ে, স্বামীসহ একই পরিবারের ১১ জন নৌকাযোগে কাজে যাচ্ছিলেন। তুরাগ নদে বালুবাহী বাল্কহেড তাদের নৌকার ওপর উঠে গেলে ডুবে যায়। এতে মনিরের বোন ও তাদের ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এখনো এক বোন ও ভাগ্নির সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তুরাগতীরে।
গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও মনিরের বড় বোন রূপায়ণ (৩২) ও তার মেয়ে জেসমিনের (২) সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। তবে মা-মেয়ের সন্ধানে টহল অব্যাহত রাখার কথা জানান বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক শেখ রবিউল ইসলাম।
গতকাল নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
এদিকে দুদিন পার হলেও নৌপুলিশ বাল্কহেড দুটি শনাক্ত করতে না পারায় মামলা করেনি। ইঞ্জিনচালিত নৌকাটির মাঝিও ঘটনার পর থেকে পলাতক।