পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের বড় অগ্রগতিতে খুশি পদ্মাপাড়ের মানুষ। বৈশ্বিক মহামারীর করোনার মধ্যে রূপপুরে চলছে মহাযজ্ঞ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘হৃৎপিণ্ড’ বা প্রাণ বলে খ্যাত সেই পারমাণবিক চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল আরএনপিপি) স্থাপনকাজের উদ্বোধন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হবে।
গতকাল চুল্লিপাত্র স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাজ উদ্বোধন করেন।
এই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ‘পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্যই ব্যবহার করব। পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেটা গ্রামের মানুষের কাছে যাবে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎকে দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি আখ্যায়িত করে বলেছেন, তার সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলেই আরেকটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পারমাণবিক চুল্লিপাত্র বসানোর এ ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে। ওই কেন্দ্রের যে যন্ত্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল (পারমাণবিক জ্বালানি) ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তার মূল কাঠামো হচ্ছে এই বিশেষ যন্ত্র, পারমাণবিক চুল্লি। এটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সেরা কর্মকৌশলের চর্চা, বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, বিদ্যুৎ ইউনিটের অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত মাত্রার নিশ্চয়তা দেবে। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎশিল্পের উন্নয়ন কেবল বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যার সমাধান করবে না, এ অঞ্চলের উন্নয়নে অবদান রাখবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি করবে।
আলেক্সি লিখাচেভ আরও বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সহযোগিতা কৌশলগত। তিনি এ মর্মে আত্মবিশ্বাসী যে বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে, যা রাশিয়ান ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।
পারমাণবিক প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী এবং সংস্থাটির কড়া নজরদারির মধ্য দিয়েই রূপপুর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
সূত্রমতে, ইউনিট-১-এর ভৌত কাঠামোর ভেতর রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হবে। এর ফলে এই ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
রূপপুর প্রকল্পের রিঅ্যাক্টরসহ যাবতীয় যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে রাশিয়াতে। সেখানকার বিভিন্ন কারখানায় এই যন্ত্রগুলো তৈরি করে সমুদ্রপথে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। প্রথম ইউনিটের ভারী যন্ত্র চারটি স্টিম জেনারেটর, প্রেশারাইজার, হাইড্রো-একোমোডেটর ইতিমধ্যেই রূপপুরে এসে পৌঁছেছে। এই ইউনিটের রিঅ্যাক্টর গত বছর অক্টোবরে রাশিয়া থেকে দেশে এসে পৌঁছায় এবং নভেম্বরে সেটি রূপপুরে নেওয়া হয়। এ বছর আগস্টে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর এসেছে। এই ভারী যন্ত্রগুলো রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দর দিয়ে রূপপুরের কাছে পদ্মায় এসে পৌঁছায়। এই রিঅ্যাক্টর ভেসেলের ওজন ৩৩৩ দশমিক ৬ টন। এটি বানাতে দুই বছরের বেশি সময় লাগে।
স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পই দেশের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বাধিক ব্যয়বহুল প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়ে যাওয়ার পর আমরা দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত মাটির জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন। তারপরও বিভিন্ন দ্বীপসহ ওই অঞ্চলে জরিপ করছি। আরেকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব, যেখানে ভালো জায়গা পাই। আমার ইচ্ছা, পদ্মার ওপারেও করব। আশা করি, এ ব্যাপারে কোনো অসুবিধা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে যদি আমরা আরেকটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারি। তাহলে বিদ্যুতের জন্য আর কোনো অসুবিধা হবে না। তারপরও আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে যাচ্ছি এ জন্য যে বিদ্যুৎ সুবিধা যেন মানুষ পায় এবং অব্যাহত থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, ইতিমধ্যে আমরা সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ২০২৩ সালে আমাদের প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি আরও ত্বরান্বিত হবে, সেটাই আমরা বিশ্বাস করি।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সময়ে আমরা এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলামÑ আমরা বিশেষ করে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল আমরা স্থাপন করলাম। যেটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। পাশাপাশি, ২০৪১ সালের মধ্যে এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশকেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু, এখানেই থেমে গেলে চলবে না ’৪১-এ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলদেশ আমরা গড়ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটা নির্মাণের ফলে আমাদের দেশের যারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বা দেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনে কর্মরত তাদের সবারই একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো। কারণ তারা এজন্য রাশিয়া এবং ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে প্রায় ৩ থেকে ৪ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করেছি। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রিঅ্যাক্টরের কাছে বা এর ভেতরে যারা কাজ করবেন তাদেরও অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে তেমনি পুরো এলাকাটিরও নিরাপত্তার যে প্রয়োজন তা পূরণ করা হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকল্পের শুরুতেই রাশিয়ার সঙ্গে তার সরকারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে পরিবেশ দূষণ আর হয় না। কারণ সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটারও খুব একটা সুযোগ থাকে না।
শেখ হাসিনা বলেন, এই রিঅ্যাক্টর বসানোর জন্য মাটি তৈরি করা থেকে নদী ড্রেজিং অর্থাৎ রাশিয়ার ভলগা থেকে পদ্মা আমরা পাড়ি দিয়েছি। কাজেই এটাও আমি মনে করি যে, ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আরও একটি আলোর দুয়ার খুলে গেল।
চলতি বছরেই প্রথম রি-অ্যাক্টরের কাজ শেষ হবে :
চলতি বছরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের সব কাজ শেষ হবে। রি-অ্যাক্টরের হৃদপি- বলে খ্যাত প্রেশার ভেসেল স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে আমাদের পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানান।
আরএনপিপি, রোসাটমের এদেশীয় জনসংযোগ বিভাগ ও প্রকল্প নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাশিয়ান মালিকানাধীন প্রধান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটোমস্ট্রোয় এক্সপোর্ট (এএসই)-এর দেওয়া তথ্য মতে, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রধান ৬টি উপাদানের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪টি উপাদান সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে স্ট্রিম জেনারেটর, প্রাইমারি সার্কিটের পাইপলাইনের ওয়্যারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলেই প্রথম ইউনিটের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ হবে।
সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের ৩ মার্চ রি-অ্যাক্টরের প্রথম ইউনিটে ভারী ও জটিল সব কাজ করার জন্য দুটি অধ্যাধুনিক ভারবাহী রেল ট্র্যাক ক্রেন স্থাপন করা হয়। ১ জুন অত্যাধুনিক ট্রেনিং সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হয়। ৬ জুন প্রথম ইউনিটের প্রেশারাইজার স্থাপন করা হয়। ২০ জুন চুল্লী সঞ্চারণ পাম্প (পেরিফেরাল কেসিং) স্থাপন করা হয়। ২৪ জুলাই প্রথম ইউনিটের রি-অ্যাক্টর ভবনের অভ্যন্তরীণ কন্টেন্টমেন্ট প্রাচীর+৪৪ দশমিক ১ মিটার টু +৬১ দশমিক ৭ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ভলগা থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ১৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নৌপথে রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেলটি বাংলাদেশের মোংলা বন্দর দিয়ে রূপপুর প্রকল্পে আনা হয়। এর গতকাল সেই রি-অ্যাক্ট প্রেশার ভেসেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইউনিটে স্থাপন করা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর গতকাল রূপপুরে সাংবাদিকদের আরও জানান, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রধান ৬টি উপাদানের মধ্যে গতকাল রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপনের মধ্য দিয়ে ৪টি উপাদানের কাজ সফলভাবে শেষ করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অবশিষ্ট দুটি উপাদান স্ট্রিম জেনারেটর স্থাপন ও প্রাইমারি সার্কিট পাইপলাইনের ওয়্যারিংয়ের কাজ শেষ করা হবে। এই দুই কাজ শেষ হলেই প্রথম রি-অ্যাক্টরের মেজর কাজগুলো শেষ হবে।
প্রধান ঠিকাদার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটমের অন্যতম প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচেভ সাংবাদিকদের জানান, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জটিল কাজগুলো শুরু করা হয়েছে। এরমধ্যে রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপরই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইউনিটে স্ট্রিম জেনারেটর স্থাপন ও প্রাইমারি সার্কিটের পাইপলাইনের ওয়্যারিংসহ বেশ কিছু জটিল কাজ রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে এই কাজগুলো সমাপ্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল পরমাণু প্রকল্পের প্রাণ। আর স্ট্রিম জেনারেটর এবং প্রাইমারি সার্কিট পাইপলাইন হলো উৎপাদন নিরাপত্তার প্রধান ব্যবস্থা। তাই প্রথম ইউনিটের জন্য আর জটিল এই দুই কাজই বাকি রয়েছে। তবে চলতি বছরেই এই দুই কাজসহ অন্যান্য ছোট ছোট কিছু কাজ সমাপ্ত করা হবে।