দেশে শিগগিরই ১২ থেকে ১৭ বছররে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সরকারের হাতে এখন ৬০ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা রয়েছে। এছাড়া আরও ৭০ লাখ ডোজ টিকার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সরকারের হাতে থাকা টিকার অর্ধেক ১২ থেকে ১৭ বছরের শিশুদের দেওয়া হবে। টিকার জন্য শিশুদের নিবন্ধন হবে জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনসের মিলনায়তনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড সফরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক এবং গ্যাভির প্রতিনিধির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে তারা ‘সায় দিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। তারা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের শুধু ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘ফাইজারের সবগুলো টিকাই আমরা স্কুলের ছেলেমেয়েদের দেব। বাকি অর্ধেক টিকা আমরা রেখে দেব শিশুদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য। আবার যখন ফাইজারের টিকা আসবে, তখন আমার দেব। এটা খুব শিগগির দেওয়া হবে। আমরা প্রোগ্রাম তৈরি করছি, দুয়েক দিনের মধ্যেই দেখবেন কাজকর্ম শুরু হয়ে গেছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের জন্মনিবন্ধন দিয়ে নিবন্ধন করবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও নিবন্ধন করা যাবে। বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই, কিন্তু জন্ম সনদ আছে, তাদের আমরা জন্মসনদের মাধ্যমে দেব। স্কুল থেকেও সার্টিফাই করবে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির এ-যাবৎকালের পরিসংখ্যানও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘সরকারের হাতে এ পর্যন্ত ৭ কোটি ২২ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৪১ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ৮১ লাখ ডোজ টিকা হাতে আছে। এ পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ।’
তিনি বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশের হাতে পাওয়া টিকার পরিমাণ ১৬ কোটি ডোজ পৌঁছাবে। এর মধ্যে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে যে টিকা দিচ্ছে, তার সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে আমাদের টিকার সংখ্যাও বেড়ে যাবে। এই টিকা দিয়ে আমরা জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারব।’
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. লোকমান হোসেন মিঞা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন।