এনজিও-মহাজন-ব্যাংক চক্রের ফাঁদে ছয় গ্রাম

ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছ থেকে নির্ধারিত সুদে ঋণ নেন দাদন ব্যবসায়ীরা। তারপর সেই ঋণ অতিরিক্ত সুদে সরবরাহ করেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে। ঋণ দেওয়ার আগে প্রত্যেককে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। সেই অ্যাকাউন্টের ব্ল্যাংক চেক জমা রাখতে হয় সুদ ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে না পারলে চেক বিক্রি হয়ে যায়। ক্ষমতাশালী সুদ ব্যবসায়ীরা সেই চেকগুলো কিনে জবরদস্তি করে টাকা আদায় করেন। অন্যথায় চেক ডিজঅনার করিয়ে আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। এক বা দুদিন নয়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে এমন অবৈধ কারবার চলছে।

সম্প্রতি জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংকের সিরাজুর ইসলাম প্রামাণিক নামে এক গ্রাহকের একটি চেকবই জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেশ রূপান্তর সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরেছে।

রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ও সোনাখাড়া নামে দুটি ইউনিয়ন আছে। এ দুই ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে রমরমা সুদের ব্যবসা চলছে। এ ব্যবসার সিন্ডিকেটে রয়েছে নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংক, ১৯টি এনজিও এবং সহস্রাধিক ফড়িয়া (স্থানীয়ভাবে যাদের সুদারু বলা হয়)। এদের কবলে পড়ে গত তিন বছরেই ছয় গ্রামের প্রায় ৫০০ মানুষের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়েছেন। কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আবার কেউ কেউ সবকিছু হারিয়ে দেশ ছেড়েই চলে গেছেন।

সোনাখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে সুদের ব্যবসা চলে আসছে। এ ব্যবসা করে অনেকেই কোটিপতি হয়ে গেছেন। আবার অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চেক ডিজঅনারের ঘটনায় অনেকেই নালিশ দিয়ে আসেন, মীমাংসাও করে দিই। কিছুদিন আগেও এলাকার শহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার বিষয়টিও মীমাংসা করেছি।’

চেয়ারম্যানের কথার সূত্র ধরে দেশ রূপান্তর কথা বলে পেশায় শিক্ষক ও ধানচালের আড়তদার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমার একটি ১ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি করে ২১ লাখ টাকা করেছিল একটি চক্র। যে চক্রে এক প্রতারক, সুদারুসহ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত। চেকটি নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজঅনার করিয়ে এনআই অ্যাক্টে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে যে তারিখে তারা চেক ডিজঅনার করিয়েছিল, সেই তারিখে ব্যাংক বন্ধ থাকায় আমিও অগ্রণী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করি। পরে ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মীমাংসা করতে গিয়ে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়।’

শহিদুল ইসলাম আরও জানান, এই এলাকায় তার মতো অনেকেই ব্যাংক, এনজিও এবং সুদারু সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

১০ হাজার টাকার চেকের দাম সাড়ে ১৬ লাখ টাকা : শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি কাজের জন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। বিনিময়ে তাকে একটি ব্ল্যাংক চেক দিই। পরবর্তীকালে সেই চেকটি কিনে নেয় স্থানীয় সুদারু আবুল কাশেম। তিনি ওই চেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার অঙ্ক বসিয়ে চেক ডিজঅনার করিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলাটি এখনো চলমান আছে। একইভাবে সুদারুদের কাছ থেকে যারা লোন নিয়ে শোধ করতে পারেন না, তাদের চেকগুলো অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বা ক্ষমতাবান সুদারুরা কিনে নেন। তারপর সেই ব্ল্যাংক চেকের অপব্যবহার করেন। কখনো অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। আবার কখনো মামলা করিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করেন।’

সিরাজুর দম্পতির বিরুদ্ধে ৩১ লাখ টাকার ভুয়া মামলা : জেলার রায়গঞ্জ থানার ধামাইর ইউনিয়নের বাঁকাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুর ইসলাম প্রামাণিক। পেশায় কৃষক। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর তার বাড়িতে লিগ্যাল নোটিস যায়। তারপর ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে সমন যায়। জানতে পারেন তিনি ‘প্রতারক’। মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে পাওনাদারকে যে চেক দিয়েছিলেন, সেই চেকের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা না থাকায় আদালতে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে মামলা হয়েছে। এ তথ্য জানার পর সিরাজুরের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। দিশেহারা সিরাজুর নানা জায়গায় ছোটাছুটি শুরু করেন। কোর্টে গিয়ে জানতে পারেন, শুধু তিনি নন, তার স্ত্রী মোছা. রোকেয়া বেগমের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। মামলার বাদী তারই প্রতিবেশী মো. জাকির হোসেন। আদালতে করা দুই মামলায় জাকির অভিযোগ করেন, সিরাজুর ও তার স্ত্রী দুজন মিলে তার কাছ থেকে ৩১ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। জমি বিক্রির কথা বলে সিরাজুরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেন। আর ব্যবসার কথা বলে সিরাজুর নেন ১৫ লাখ টাকা। সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তারা চেক দিলেও অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা না থাকায় চেক ডিজঅনার হওয়ায় মামলা করা হয়।

সিরাজুর ইসলাম প্রামাণিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি ডাহা মিথ্যা। আমার কাছে কোনো টাকা পান না জাকির। আমি কোনো চেকও ইস্যু করিনি। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আমার নামে চেকবই হাতিয়ে নিয়ে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে ডিজঅনার করিয়ে মামলা করেছেন। পুরো ঘটনাই সাজানো। অগ্রণী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। পরে আমি এই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছি। ইতিমধ্যে ব্যাংকের তদন্তে চেক জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা জালিয়াতির সত্যতাও পেয়েছেন।’

নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলার বাদী জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মী জাকারিয়ার ভাই। এছাড়া ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও আরও কয়েকজন মিলে সিরাজুরের চেকবই জাকিরের কাছে দিয়ে দেয়। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধান অফিস থেকে তদন্ত টিম এসেছিলেন। তারা সব তথ্য নিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার মধ্যে আছি। তদন্ত শেষ হলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে আমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, একটু দেখবেন প্লিজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ সুদের ব্যবসা করেন। টাকা ধার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে থাকেন। পরে ওইসব চেক ব্যবহার করেই সুদ ব্যবসায়ীরা চেক ডিজঅনার করিয়ে নেন। এরপর মামলা করে থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাংকেই মাসে পাঁচ-সাতটি ডিজঅনারের ঘটনা ঘটে। যার কারণে চেক ডিজঅনার নিয়ে আমি সবসময়ই ঝামেলার মধ্যে থাকি। এরই ফাঁকে সিরাজুরের চেকবই কে বা কারা, কীভাবে আরেকজনের হাতে চলে গেছে সে বিষয়ে কোনো কিছু আমার জানা নেই।’

ভুয়া মামলার সিন্ডিকেটে ব্যাংক কর্মকর্তা! : একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জেলার রায়গঞ্জের নিমগাছী অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দ্বিতীয় কর্মকর্তা (সেকেন্ড অফিসার) জহুরুল ইসলাম ও মাঠকর্মী জাকারিয়া ‘চেক ডিজঅনার’ কারবারের হোতা। স্থানীয় সুদ কারবারিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করতে সহায়তা করেন তারা। মামলার পর কথিত আসামিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। আদায় করা টাকার একটি অংশ যায় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর পকেটে। বাকি টাকা সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ভাগাভাগি করে নেন। এ চক্রের যোগসাজশেই সিরাজুর দম্পতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সিরাজুর দম্পতি কিংবা শহিদুল মাস্টার ছাড়াও এসব গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এনআই অ্যাক্টের মামলার আসামি। গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছরে ধামাইনগর ও সোনাখাড়া ইউনিয়নের ছয় গ্রামের অন্তত ৫০০ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তাদের অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ জরিমানা দিতে গিয়ে ভিটেবাড়ি হারিয়েছেন। আবার কেউ দিতে না পেরে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে এলাকা ছেড়েছেন।

ব্যাংক, এনজিও ও সুদ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে জিম্মি স্থানীয়রা : রায়গঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষক। চাষাবাদ ও গবাদিপশু পালনের জন্য কখনো কখনো ব্যাংক থেকে লোন নেন। কিন্তু ঘুষ ছাড়া ব্যাংকটির কাছ থেকে কোনো লোন পান না কৃষকরা। এ সুযোগটি নিচ্ছে এনজিওগুলো। তবে তারাও সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কোনো লোন দেয় না। স্থানীয় প্রভাবশালী সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে তারা মোটা অঙ্কের লোন দেয়। সেই লোন সুদ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক বা খামারিদের দেওয়া হয় অতিরিক্ত সুদে। এনজিওগুলো যেখানে সুদের মহাজনদের কাছে ৩ থেকে ৪ পার্সেন্টে লোন দেয়, সেখানে এ মহাজনরাই দুস্থ লোকজনকে ৭ থেকে ১৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত সুদে টাকা ধার দেন। যারা টাকা নেন, তাদের প্রত্যেককে অগ্রণী ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক জমা রাখতে হয় এ সুদ কারবারিদের কাছে। ফলে মহাজনরা নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না পেলে এ ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে মামলা করে দেন। আবার কখনো কখনো টাকা উত্তোলনের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে ওইসব চেক বিক্রিও করে দেন। সেই চেকের সহায়তায় জোর-জবরদস্তি করে ঋণ নেওয়া অঙ্কের দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা আদায় করেন প্রভাবশালীরা। এ কারবারে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে ব্যাংকটির কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

৩ বছরে ৬ গ্রামে ৫০০ আসামি! : সিরাজগঞ্জ আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিনই নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টে মামলা হয়ে থাকে। গত ৯ মাসে এ ধরনের ৫৪৫টি মামলা হয়েছে। এছাড়া গত তিন বছরে রায়গঞ্জের সোনাখাড়া ও ধামাইনগর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামেই প্রায় ৫০০ মানুষের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত : ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, একাধিক অভিযোগের ঘটনায় নিমগাছী শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সিনিয়র অফিসার জহুরুল ইসলাম ও মাঠকর্মী জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও নির্মল চন্দ্র অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ভুক্তভোগীদের জানিয়ে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর সিরাজুর ইসলামের অনুপস্থিতিতে অর্থের বিনিময়ে শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ অন্য আরেকজনকে তার ব্যাংক হিসাবের চেকবই দিয়ে দেন। পরবর্তীকালে সেই চেকবইয়ের অপব্যবহার করে তারই প্রতিবেশী জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিরাজুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর চেকবই ইস্যু করেছি যার সাদা পাতা এখনো আছে। অথচ ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর যে চেকবইটি আমার হিসাবের নামে চেক ইস্যু করানো হয়েছে, সেদিন আমি ব্যাংকে যাইনি। আমার জমি দখলের জন্যই তারা আমার নামে চেক নিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে।’

ব্যাংক, এনজিও ও সুদ ব্যবসায়ীদের এসব অবৈধ কারবার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তিকণা মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। পরবর্তী মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা করব।’